Showing posts with label Slider. Show all posts
Showing posts with label Slider. Show all posts

কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে মসজিদে আগুণ, তবে কী দোষ করেছিলো অভিজিতরা?


কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে মসজিদে আগুণ, তবে কী দোষ করেছিলো অভিজিতরা?

ঘটনাটি ঘটেছে লক্ষীপুরের আচু হাওলাদার জামে মসজিদে । কমিটি গঠনের জের ধরে এই আগুন লাগানো হয়েছে বলে দাবি করছে উক্ত মসজিদের ইমাম ও বর্তমানের নির্বাচিত কমিটির সদস্যসহ এলাকার অনেকেই । মসজিদে আগুন দেয়ার পর মসজিদসংলগ্ন ইমামের কক্ষটিতে রাখা ইমামের কাপড় ও অনেকগুলো কোরআন-হাদিসের বই পুড়ে যায় । ভাগ্যিস সে সময় মসজিদ ও ইমামের কক্ষে কেউ ছিলোনা । সোর্স: (http://www.banglamail24.com/news/2015/05/16/id/212818/)

কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে মসজিদে আগুণ

মসজিদে আগুণ দিয়েছে দুর্বৃত্তরা । দুর্বৃত্তদের কেউ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান নয়, নাস্তিকও নয় । মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে সংখ্যালঘুদের সে সাহস নেই । বরং এই মুসলিমরা মানে আমরাই তাদের মন্দির-প্যাগোডা-চার্চ গুড়িয়ে দিয়েছি, আগুণ লাগিয়ে দিয়েছি এবং প্রতিনিয়ত সেটাই করে চলেছি । একের পর এক হত্যা করে চলেছি নাস্তিকভাবাদর্শী মানুষদের ।

যারা মসজিদের কমিটির পদ গ্রহণ করার জন্য মসজিদে আগুন দিতে পারে, কোরআন-হাদিসের বই পোড়াতে পারে, তারা আদৌ কি সঠিক পথে আছে? একজন নাস্তিক কি কখনো সে কাজ করেছে? শুধু ধর্মীয় অবিশ্বাস ও তাদের মতাদর্শ প্রচারণা-প্রতিষ্ঠার জন্য আজ তারা যত্রতত্র খুন হচ্ছে । অথচ একজন ধর্মে বিশ্বাসী নিজেই নিজেরদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মসজিদে আগুন দেয়, কোরআন পোড়ায় তারাই আবার সমাজে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ায় । এসব কি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অবমাননা, অসম্মান প্রদর্শণ নয়? শরীয়াহ সম্পূর্ণ রাষ্ট্রের এখতিয়ারে । শরীয়াহ নিজের হাতে তুলে নিয়ে ইসলামকে সবার সামনে সন্ত্রাসী ধর্ম বানানোটা কি ইসলামের অবমাননা নয়? এরকমভাবে সত্য-সুন্দর-ভারসাম্যপূর্ণ ইসলামকে ফতোয়া, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ইত্যাদির মাধ্যমে সবার সামনে হাস্যকর, অযৌক্তিক হিসেবে ইসলামকে উপস্থাপন করা কি আল্লাহ-রাসূল-ইসলামকে গালি দেয়ার চাইতেও নিকৃষ্ট কাজ নয়?
মোদ্দাকথা, ধর্মীয় অবমাননা, আল্লাহ-রাসূল-ইসলামকে গালিগালাজ করলো দুজনেই । কিন্তু শাস্তি পেলো একজন । ব্যাপারটা বেশ ভাবিয়ে তোলায়, জন্ম দেয় হাজারো প্রশ্ন, যে প্রশ্নের উত্তর আমাদের কাছে আছে কি?

সুস্থ মস্তিষ্কে ভাবুন । দেখুন ধর্মকে আমরা কিভাবে উপস্থাপন করছি । নিজেদের স্বার্থের জন্য কী না করতে পারি । অথচ ইসলাম এসেছে মানবতার কল্যাণের জন্য । উম্মতের মোহাম্মদীদের দায়িত্বই ছিলো সৎকাজের আদেশ আর অন্যায়কাজে বাঁধা প্রদান করা । (দেখুন সূরা আল ইমরান: ১১২)
আস্তিক-নাস্তিক নির্বিশেষে ভেবে দেখার বিষয়, যে আল্লাহ এতোবড় দায়িত্ব দিয়ে উম্মতে মোহাম্মদীকে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন, সে আল্লাহ নিশ্চয় অমানবিক এমনকিছুর অনুমোদন দিতে পারেন না । ধর্মকে নিয়ে ব্যবসা, অপরাজনীতি, কলহ-দ্বন্দ্ব, অহেতুক যুদ্ধ, সন্ত্রাসবাদ, নারীকে গৃহবন্দী-পর্দায় বন্দী, দাসপ্রথা, স্ত্রীর অনিচ্ছাসত্ত্বেও বহুবিবাহ ইত্যাদির অনুমোদন তিনি দিতে পারেন না । তবে এটা সত্য বর্তমানে প্রচলিত ইসলামে এসবকিছুই রয়েছে । মূলত এসব ধীরেধীরে প্রতিষ্ঠার ফল । নবী-রাসূলদের তিরোধানের পরপর সমাজে একশ্রেণি আলেমদের উদয় হয়, যারা নিজেদের স্বার্থের জন্য ধর্মের ধ্যানধারনা, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, ধর্মীয় গ্রন্থ নিজেদের সুবিধামত পরিবর্তন-সংযোজনের মাধ্যমে বিকৃত করতে শুরু করে । সেই বিকৃত ইসলামই আজ সারাপৃথিবীতে চলছে । আর মুসলিমরা সেই বিকৃত ইসলাম দিয়ে নিজেরাও শান্তি পাচ্ছেনা, নাস্তিক ও ধর্মবিদ্বেষীরা বিকৃত ইসলামের বিকৃতির ফলাফল দেখে আরো ধর্মবিদ্বেষী হতে একরকম বাধ্য হচ্ছে, তাদের বদ্ধমূল ধারণা আরো শক্ত হচ্ছে । পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ও ধর্মবিশ্বাস প্রতিনিয়ত সমস্যার সৃষ্টি করছে, সমাধানের পথে কেউ নেই বললেই চলে । নাস্তিককে হত্যা করে কী লাভ? নিজেরাই তো নিজেদের ধর্মের বারোটা বাজিয়ে ফেলেছে !

উপরোক্ত দুশ্রেণির বাইরে গিয়ে শান্তিকামীদেরকে আজ কিছু একটা করতেই হবে । ধর্ম এসেছে মানবতার জন্য, অন্যায়কে ধ্বংস করার জন্য  । আর সেজন্য যুদ্ধ পর্যন্ত করতে হয়েছিলো । সেই হারিয়ে যাওয়া প্রকৃত ধর্মকে মিথ্যার অন্ধকার থেকে বের করে এনেছেন এমামুয্যামান মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী । প্রকৃত সত্য পেতে একবার সত্যসন্ধানী মানসিকতা নিয়ে পড়ুন উনার লেখা বইগুলো । সত্যসন্ধানীদের জন্য এরচেয়ে উত্তম গন্তব্যস্থল আমার জানা নেই । 

লেখক
ইলিয়াস আহমেদ

প্রকৃতি প্রগতিশীল তবে ধর্মে কেন স্থবিরতা?


কালের ইতিহাসে সবকিছুই লেখা হয় না আবার কিছু কিছু জিনিস ইতিহাসে লিপিবদ্ধ করার প্রয়োজনও পড়ে না। আসলে এসব ইতিহাসও নয়, বলতে গেলে একেকটা বহমান ঘটনার বৃত্তান্ত। তেমনি একটি বৃত্তান্ত হলো- নগরসভ্যতার স্পর্শ পেয়েও কোনো এক সমাজের স্বাভাবিক যুবকটি হঠাৎ করেই গেরুয়া বসনে উধাও হয়ে গিয়েছে। অনেকদিন পর তার মুখ ভর্তি দাঁড়ি-গোঁফ আর মাথাভর্তি চুলের নিথর দেহটি পাওয়া গেলো সমাজ-নগর-দেশ থেকে বহুদূরের কোনো এক গুহায় অথবা পাহাড়ের কোল ঘেঁষে ছোট্ট এক ঝোঁপঝাড়ে। সেই গেরুয়া বসনের যুবকটির কাছ থেকে পৃথিবী কিছুই পায় নি, সমাজ-দেশ-পরিবার তার দ্বারা উপকৃত হতে পারে নি। অথবা এটাও তো আমরা শুনে থাকব, কোনো এক মুদি দোকানদার বাবার সঙ্গে সেই কিশোরকাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার জীবন কাটিয়ে দিয়েছে সেই মুদি দোকান আর সংসারের দেখভাল করে। সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি তার প্রাত্যহিক রুটিন ছিলো একই। দোকান অভিমুখী একই রাস্তায় যাতায়াত। তার দ্বারা পরিবার ব্যতীত মানবসমাজ তেমন উপকৃত হতে পারে নি। আচ্ছা, আমাদের কি মনে আছে ঐ যুবকটির কথা, যে কলেজ পাস করার পর সওদাগরী অফিসে একটা চাকরি পেয়েছিল? তারপর বিয়ে-সংসার। সেই সকাল থেকে বিকেল অবধি একটানা অফিস করার পর ক্লান্ত পায়ে সে বাজার করে বাড়ি ফিরত আর গিন্নী বাজারের ব্যাগটা হাতে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকত? আমাদের কি মনে আছে তাদের কথা? সারাজীবন অফিস আর সংসার করে করে বার্ধক্যে বেচারা বিষাদময় হতাশায় ভুগছিল- সারাজীবন সে কী করেছে? না পেরেছে জীবনের উদ্দেশ্য বুঝতে, না তার দ্বারা মানবসমাজ তেমন কিছু উপকৃত হয়েছে। নিজেকে মূল্যহীন ভাবতে ভাবতে একসময় তার চিন্তাভাবনা থেমে যায় চিরতরে।

আবহমান জীবনযাপন আর ইতিহাস থেকে বের হয়ে যুগের হাওয়ায় এবার চলুন একটু ভাসি প্রগতির প্যারাস্যুটে। যোগাযোগ ব্যবস্থায় চরম উন্নতির ফলে আমরা আজ অনায়াসেই কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের সংস্কৃতির সাথে মিশে যেতে পারি, অন্যের সংস্কৃতি লালন করতে পারি। সদ্য উদ্ভব হওয়া কোনো সংস্কৃতিকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে পারি। যেখানে সংস্কৃতির বিবর্তন ঘটতে আগে সময় লাগত শত শত বছর সেখানে বছরে বছরে আমাদের সংস্কৃতি, মূল্যবোধ, মানদণ্ড ও সামাজিক অনুসর্গ-উপসর্গের পরিবর্তন হচ্ছে। শুধু সংস্কৃতিতে নয়, এই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় সাফল্যের কারণেই মেসোপটেমিয়া, মিশর, গ্রিক, রোম, পারস্য নামের আজ অঞ্চলভিত্তিক কোনো সভ্যতা নেই। সব সভ্যতা মিলে আজ গ্লোবাল ভিলেজে একাকার হয়ে গেছে। যান্ত্রিক প্রগতির সাথে সাথে পাল্টে গেছে আমাদের চিন্তাভাবনা, ধ্যান-ধারণা। গভীর রাতের পুকুরে ভাসমান আলেয়া আজ অবমুক্ত মিথেন, ঝাঁড়-ফুঁকে আজকাল তেমন একটা বিশ্বাস নেই মানুষের, যতোটা বিশ্বাস আছে একজন ডাক্তারের প্রতি। তাই বলে কুসংস্কারের বিশ্বাসী, ধর্মান্ধ, সাম্প্রদায়িক, মৌলবাদ, মানসিক জরাবাতিকগ্রস্থ শ্রেণিটি যে নেই তা কিন্তু না। বরং তাদের সংখ্যাই প্রগতি ও আধুনিক চিন্তাধারার জনসংখ্যার চেয়ে ঢের বেশি। এই যে বৃহৎ এক জনশক্তি যাদের একটু সচেতনতায় পৃথিবীতে নেমে আসত শান্তি, যারা ইচ্ছে করলেই পারত পৃথিবীটাকে সুন্দর করে সাজাতে, যারা ইচ্ছে করলেই পারত স্রষ্টার সন্তুষ্টি অর্জন করতে তারা যেমন মৃত, বিকৃত, কুসংস্কারময় ধর্মকে আঁকড়ে ধরে বুঁদ হয়ে আছে অন্যদিকে যারা অশ্লীল-কুরুচিপূর্ণ পোষাক পরিধান করে, বিবিধ মাদকতা আর উন্মাদনায় ডুবে থাকে, নারী অধিকারের নামে তাকে শোবিজের হাঁটে নগ্ন-পোশাকে উপস্থাপন করে, তার দেহকে বিজ্ঞাপনের সামগ্রী বানায়, উদারতার নামে সমকামিতার কীর্তন করে, অর্থাৎ কথিত প্রগতিবাদীরা তারাও ভিন্ন ধাঁচের জরা-বাতিকগ্রস্থতায় আক্রান্ত। একজন কুসংস্কারে বিশ্বাসী আরেকজন অতি সংস্কারে বিশ্বাসী, একজন ধর্মান্ধতায় বুঁদ অন্যজন ধর্মহীনতায় বুঁদ, একজন আপাদমস্তক আবৃত করার পক্ষে অন্যজন যতদূর সম্ভব নগ্নতার পক্ষে। শান্তিলাভকে যদি উন্নতির মানদণ্ড হিসাবে গ্রহণ করা হয় তাহলে কোনটি শান্তিদায়ী। আমি বলব, দুটি শ্রেণির মধ্যে ফলাফলগতভাবে তেমন একটা পার্থক্য নেই। অর্থাৎ দুটো শ্রেণিই ভারসাম্যহীন, পরস্পরের প্রতি চরম বিদ্বেষে ভারাক্রান্ত অন্তর নিয়ে যাদের প্রতিটি দিন কাটে। কথা বলার সুযোগ পেলেই তারা একে অপরের চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করে। তাই আসুন, যারা শান্তি চাই, তারা নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে উভয়ের থেকে সমদূরত্বে দাঁড়িয়ে নিজেদের প্রশ্ন করি- এই উভয়ের মধ্যে কোনটাকে আমরা গ্রহণ করব- অন্ধত্ব না প্রগতি?
এটা নির্দ্বিধায় বলা যায়, ধর্মান্ধতা-কূপমণ্ডূকতা-গোঁড়ামি-সাম্প্রদায়িকতা-কুসংস্কারমনার নামে স্থবিরতা মানবসমাজের গতিময়তাকে রুদ্ধ করে, পথিককে নতুন পথ সৃষ্টি করার প্রেরণা যোগায় না বরং প্রাচীন কানাগলিতে চলার বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করে, তথা শান্তি প্রতিষ্ঠায় এ সকল প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী বিষয় কখনই কাম্য নয়। কারণ প্রকৃতি যেখানে নিয়ত গতিময়, পরিবর্তনশীল সেখানে আমরা মানুষ কোন যুক্তিতে অনড়, অচল একটি অবস্থানকে নিয়তির মতো ধরে রেখে স্থবিরতার পরিচয় দেব?
প্রাণিভূগোলে ‘মহাদেশীয় সঞ্চারণ’ (Continental drift) নামে একটা তত্ত্ব আছে, যেখানে সময়ের প্রেক্ষিতে সাতটা মহাদেশের পরস্পর থেকে ক্রমমান দূরে সরে যাওয়ার ব্যাপারটা আলোকপাত করা হয়েছে। এই ‘মহাদেশীয় সঞ্চারণ’ দুয়েক দিনে হঠাৎ করেই সম্ভব হয় নি বা সে অনুযায়ী ঘটছেওনা; সময়ের প্রেক্ষিতে খুব ধীরে সেটা ঘটেছে এবং এখনও ঘটছে। অর্থাৎ পৃথিবী শুধু আহ্নিক আর বার্ষিক গতিতেই গতিশীল এমনটি নয়, আন্তঃঅভ্যন্তরীণেও চলছে গতিময় পরিবর্তন। পৃথিবীতে অবস্থিত যত সৃষ্টি আছে সব কিছুই গতিশীল। অণু-পরমাণু থেকে শুরু করে সবকিছু। ইলেকট্রনের প্রদক্ষিণ, আয়নের ছোটাছুটি, কোষের বিভাজন কেনোটাই স্থবিরতার পরিচয় দেয় না। জড় থেকে জীব সবাই তার নিজস্বগতিতে গতিশীল। কেউ থেমে নেই। আপাতদৃষ্টিতে উদ্ভিদকে স্থির মনে হলেও তার অভ্যন্তরীণে মূল থেকে পাতায় পাতায় চলছে শ্বসন, প্রস্বেদন তথা আয়নের ছোটাছুটি, কোষের বিভাজন। অবাত শ্বসন-সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া স¤পন্নে সে সর্বদাই গতিশীল। এককোষী প্রাণী অ্যামিবা পর্যন্ত স্থির নয়, ক্ষণপদ সৃষ্টির মাধ্যমে সে ছুটে চলে জীবনের অস্তিত্ব বজায় রাখতে। সৃষ্টির সেরা মানুষের অভ্যন্তরেও প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে জৈবিক গতিময় ব্যবস্থা। হৃৎপিণ্ডের সংকোচন-প্রসারণ, ধমনী-শিরার মাধ্যমে ক্রমাগত রক্তসঞ্চালন, কোষের বিভাজন ও দেহের বৃদ্ধি সবকিছুই প্রকৃতির সদাগতিয়মতার দিকেই দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

শুধু পৃথিবী ও তার সৃষ্টিতেই এই গতিময় অবস্থা বিরাজমান তা নয়, ঐশী গ্রন্থ আল-কুরআনেও বলা হয়েছে, সৃষ্টির শুরু থেকেই মহাবিশ্ব ক্রমাগত সম্প্রসারিত হয়ে চলেছে। আল্লাহ বলেন, “আমি স্বীয় ক্ষমতাবলে আকাশ নির্মাণ করেছি এবং আমিই এর সম্প্রসারণকারী” (সুরা যারিয়াত ৪৭)। যদিও কয়েক দশক আগে এই তত্ত্বের ধ্যন-ধারণা ও প্রমাণ করেন বিজ্ঞানী হাবল-এর (Hubble) মতো বিজ্ঞানীরা। যে কোনো অবস্থান থেকে দেখলে মনে হবে বাকি সবকিছু পিছিয়ে যাচ্ছে। এই সম্প্রসারণ দূরবর্তী ৩ঈ-২৯৫ গ্যালাক্সির জন্য প্রতি সেকেন্ডে ৯০,০০০ মাইল। যাইহোক, মূলকথা হলো পৃথিবীসহ মহাবিশ্বে যা কিছু আছে সবই সাম্যাবস্থায় পরিণত হওয়ার অভিপ্রায়েই হোক আর অন্য কোনো অবস্থায় পরিণত হওয়ার লক্ষ্যেই হোক, ক্রমবর্ধমান গতিশীল। অর্থাৎ এতেই সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, প্রাকৃতিকভাবেই পৃথিবীসহ মহাবিশ্বে যা কিছু আছে সবকিছুতেই গতিময় (Dynamic) একটা অবস্থা বিদ্যমান। পার্থক্য শুধু কার্যে-ক্ষেত্রে-ধরণে। কিন্তু সবার লক্ষ্যই যেন এক, অভিন্ন- এক মহা উদ্দেশ্য সাধনে সবাই মহা ব্যতিব্যস্ত- কেউ থেমে নেই।
এ থেকে বুঝা যায়, সৃষ্টিগত ভাবেই আমরা মানুষ গতিশীল। আমাদের অস্তিত্বজুড়ে স্পন্দন । গতিহীনতাই মৃত্যু। তাই জরা-বাতিকগ্রস্থতা, পিছুটান, স্থিতিশীল থাকা আমাদের সাজে না। সে অনুযায়ী স্থবিরতা আমাদের কখনোই কাম্য নয়, প্রগতিই আমাদের বৈশিষ্ট্য হওয়া উচিত এবং অবশ্যকর্তব্য। কিন্তু আমরা ইতোমধ্যে লক্ষ্য করেছি বর্তমান সভ্যতায় প্রগতি বলতে যা বুঝায় তা সর্বদাই শান্তিময় ও কল্যাণকর নয়। প্রগতির নামে আজ যা চলছে তা সবই শুধু স্থবিরতার নয় পশ্চাদগামিতার পরিচয় দেয়। যেমন প্রগতিবাদীদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে যথেচ্ছ ইন্দ্রিয় উপভোগের স্বাধীনতা, এর মধ্যেই চলে আসে নগ্নতা, অশ্লীলতা, নারীদেহের বাণিজ্যিক ব্যবহার ও প্রদর্শনী, সমকামিতা ইত্যাদির অধিকার। এগুলো কোনটা প্রগতির পরিচয় বা নব আবিষ্কার? এর সবগুলোই সুদূর অতীতের বর্বর অসভ্যতার যুগগুলোতে মানুষ মাড়িয়ে এসেছে। প্রগতির পক্ষে যারা তাদের এটাতো মাথায় রাখতে হবে, প্রগতি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য মানবতার কল্যাণ। যে প্রগতি দিয়ে মানবতার কল্যাণ হয় না বরং যার ফলে বিদ্বেষ বাড়ে, পরিবার থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পর্যন্ত বাড়ে অপরাধ, ভারসাম্যহীনতা; যে প্রগতি মানুষকে শান্তি দিতে পারে না সেটা কখনই প্রকৃত অর্থ প্রগতি হতে পারে না- সেটা প্রগতির নামে প্রতারণা, পশ্চাদগামিতা। আজ অধিকাংশ মানুষই মনে করছেন, যে যত বেশি আধুনিক যান্ত্রিক প্রগতি ও সংস্কৃতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারবে সে ততোই সপ্রতিভ, প্রগতিমনা, আধুনিকমনা। তাই যে ফেসবুক বোঝে না, তাকে ব্যাকডেটেড মনে করা হয় আর যে নায়ক-নায়িকাদের অনুকরণে পোশাক-আশাক পরে অষ্টবক্রকলেবর হয়ে নাকমুখ বাঁকা করে স্মার্টফোনে সেলফি তুলে থ্রিজি কানেকশান ব্যবহার করে আপলোড করতে পারে তাকেই আপটুডেট মনে করা হয়। সারাদিনরাত সামাজিক যোগাযোগ সাইটে বুঁদ হয়ে থাকা, বার-পার্টি-কনসার্টে, থার্টিফার্স্ট, ভালোবাসাদিবস, বন্ধুদিবস ইত্যাদিতে মাদকসেবনের পাশাপাশি রাতবেরাত বন্ধু-বান্ধবীর সাথে আড্ডা দেয়া, ডেটিং করা (বিস্তারিত না বললেও চলবে), ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে টিভির সামনে বসে খেলা-সিনেমা-সিরিয়াল দেখা, ঘরে কিংবা সাইবার ক্যাফেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে কম্পিউটারে গেম খেলা, সানগ্লাস আর থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট পরে অস্বাভাবিক গতিতে বাইক চালিয়ে নায়কত্ব দেখানো, মুখে বাংরেজি বুলি ও খিস্তি-খেউড়, ইভটিজিং করা প্রভৃতি আধুনিক ও প্রগতিমনার অন্যতম শর্ত। আরেকটু আধুনিক হতে হলে এগুলোর পাশাপাশি ধর্মকে গালিগালাজ করতে হবে। যে যত বেশি এগুলোর সাথে আপডেট সে তত আধুনিক, তত স্মার্ট, তত প্রগতিশীল। কিন্তু আসলেই কি তাই? না। এগুলো আধুনিক যুগের অন্ধত্ব।
প্রতিটি জিনিসের ভালো মন্দ নির্ভর করে তার ব্যবহারের উপর। একটা মোবাইল বা কম্পিউটারের আবিষ্কারে কোনো দোষ নেই, বরং আশীর্বাদ। এই যান্ত্রিক প্রযুক্তিকে যতক্ষণ মানবকল্যাণে ব্যবহার করা হবে ততক্ষণ সেটা প্রগতির পরিচয় দেবে কিন্তু যখনই সারা দিনরাত কেউ অপ্রয়োজনে টিভি-কম্পিউটার-ইন্টারনেট-সামাজিক যোগাযোগ সাইটে বুঁদ হয়ে থেকে তার জীবন থেকে মূল্যবান সময়-শ্রম নষ্ট করে, অনুৎপাদনশীল, স্থবির, গতিহীন হয়ে বসে থাকবে তখন সেটা সার্বিক দিক দিয়ে কখনই প্রগতিশীলতার পরিচয় দেয় না। বরং সেই যান্ত্রিক প্রগতি তখন সার্বিক অধোঃগতির পরিচয় বহন করে। তাই যান্ত্রিক প্রগতির সাথে সার্বিক প্রগতিকে গুলিয়ে ফেলাটাই হবে সবচেয়ে বড় ভুল। যান্ত্রিক প্রগতিকে যদি আমরা সার্বিক প্রগতির লক্ষ্যে ব্যবহার করতে চাই, তবে এমন কিছু সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ আমাদের মাঝে প্রতিষ্ঠিত থাকতে হবে যা আমাদের মন ও দেহের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ। এটা ভুললে চলবেনা যে, আমরা যন্ত্র নই, আমরা আত্মা ও দেহের সমন্বয়ে মানুষ। যদি আত্মা না থাকত তবে আমরা পুরোপুরি যান্ত্রিক প্রগতির উপর নির্ভরশীল হয়ে সুখে শান্তিতে দিন কাটাতে পারতাম। কিন্তু আমাদের আত্মা সবসময় কর্মপালনে ব্যস্ত থাকতে চায় না, আত্মা নির্দিষ্ট সময়ে নীরবতা চায়, চিন্তা ও কল্পনা করতে চায়। বর্তমান যান্ত্রিক সভ্যতায় ডুবে থেকে ক্লান্তি-শ্রান্তির পর অবশেষে পাশ্চাত্য দেশগুলোর মানুষ বুঝতে সক্ষম হয়েছে যে, আমরা আসলেই শুধু দেহনির্ভর নয়, আমাদের আত্মা বলেও কিছু একটা আছে। সেই আত্মিক প্রশান্তির জন্য তারা বেছে নিয়েছে বিভিন্নরকম মেডিটেশন পদ্ধতি ও ধর্মান্তরিত হওয়ার সংস্কৃতি।

অতএব সিদ্ধান্ত এই দাঁড়ালো যে, মানবকল্যাণের লক্ষ্যে যে যান্ত্রিক প্রগতি সেটাকে নির্দ্বিধায় গ্রহণ করতে হবে। আর সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত হলো, আমাদের দেহ ও মনের সাথে যা ভারসাম্যপূর্ণ তথা স্রষ্টার দেয়া জীবনব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এটা ভাবার কোনো অবকাশ নেই যে, যান্ত্রিক প্রগতির স্রষ্টা ও মালিক মানুষ নিজেই। কারণ, স্রষ্টা তাঁর সৃষ্টির মাঝে কেবল মানুষকেই জ্ঞান নামের অমূল্য এক সম্পদ দান করেছেন। তিনি বলেছেন, তিনি আদমকে শিক্ষা দিলে সমস্ত বস্তুর নাম (সুরা বাকারা ৩১)। সেই জ্ঞান কী করে ব্যবহার করতে হয় সেটার জন্য তিনি দিয়েছেন বুদ্ধি-বিবেক। আল্লাহ বলেন, “অতঃপর আল্লাহ তাকে জানালেন কোনটি তার জন্য ভুল এবং কোনটি সঠিক” (সুরা শামস ৮)। আর আমরা মানুষতো শুধু আল্লাহর দেওয়া অকল্পনীয় শক্তিশালী মস্তিষ্কটি খাটাচ্ছি আর পরিশ্রম করেছি, স্রষ্টাও তাই চেয়েছেন। ঐশী গ্রন্থ কোর’আনে তিনি বলেছেন, “আমি (আল্লাহ) মানুষকে শ্রমনির্ভরশীল করে সৃষ্টি করেছি” (সুরা বালাদঃ ৪)।
নদীর স্রোতধারা, ঝর্ণার প্রবাহ, সমুদ্রের ঢেউ, মেঘের বৃষ্টি, রৌদ্রের প্রখরতা, সূর্যের উদয়াচল থেকে অস্তাচল প্রত্যেকেই তার নিজস্ব জগতে গতিশীল (Dynamic), কিন্তু মহা উদ্দেশ্য সাধনে সামষ্টিকভাবে প্রত্যেকেই অবদান রেখে চলেছে। প্রত্যেকের এই গতিময় অবস্থাই তাদের স্ব স্ব প্রগতির পরিচয় দেয়। তারা স্থির নয়, তারা থেমে নেই। তাদের মাঝে নেই জরা-বার্ধক্য-কূপমণ্ডূকতা-গোঁড়ামির মতো স্থবিরতা। কারণ বার্ধক্য তো তা-ই, মৃত্যু তো তারই হয় যে অনুৎপাদনশীল (Unproductive), যে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ভালো কিছুই রেখে যেতে পারে না। যে কেবলমাত্র নিজস্ব স্বার্থ হাসিলের জন্য প্রচেষ্টা করে, আত্মকেন্দ্রিকতায় বুঁদ থাকে সে কখনোই প্রগতিবাদী হতে পারে না, সে স্থবির-জরাবাতিকগ্রস্থতায় যে আক্রান্ত হয়ে একসময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। আর যারা পরার্থে আত্মত্যাগ করে তারাই প্রগতিবাদী তারাই শহীদ, তাদের কোনো মৃত্যু নেই। অমরত্বের আকাঙ্খা মানুষের চিরন্তন। অমরত্বের আকাঙ্খায় আদম (আ.) ও মা হাওয়া গন্দম খেয়েছিলেন। আমরাও চাই অমর হতে, আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের মাঝে, ইতিহাসের পাতায়, আমাদের কীর্তির মন্দিরে। কিন্তু সেই অমরত্বের পথ সবার ভাগ্যে জোটে না। সেই সুযোগ পৃথিবীতে আবার সৃষ্টি হয়েছে। আসুন, মানবকল্যাণকে সামনে রেখে সকল ধরণের জরা-বার্ধক্য-কূপমণ্ডূকতা-কুসংস্কার-গোঁড়ামি-ধর্মান্ধতা-অন্ধবিশ্বাস-একচোখা দৃষ্টিভঙ্গি ডিঙ্গিয়ে ঝরনার মতো উদ্দাম ও তটিনির মতো চঞ্চল হই। ধর্মের নামে স্থবিরতা নয়, নয় প্রগতিবাদী ভুতের উল্টোমুখী গতি, আসুন সত্যিকার প্রগতিবাদী হই।



লেখক,
ইলিয়াস আহমেদ


(দৈনিক বজ্রশক্তি পত্রিকায় ছাপানো)

স্বার্থের টানে জয়া আহসানরা এভাবেই দেশেকে হেয় করে


স্বার্থের টানে জয়া আহসানরা এভাবেই দেশেকে হেয় করে

কিছুদিন আগে বাংলাদেশের একসময়ের মডেল অভিনেত্রী জয়া আহসান বড় পর্দায় বেশ নাম ডাক কুড়িয়েছেন । বাংলাদেশের তার সর্বশেষ সফল সিনেমা ‘জিরো ডিগ্রী’ ।

ভারত-বাংলাদেশের যৌথ প্রযোজনায় বেশ কয়েকটি সিনেমায় সফলতা লাভ করেছেন তিনি । যেহেতু বাংলাদেশের সিনেমা বাজার তেমন একটা বাণিজ্যিক সফল ও আন্তর্জাতিক অভিনেত্রী ক্যারিয়ার হিসেবে সিনেপ্লেস নয়, তাই হয়তো এদেশের জয়া-মাহিরা ওপার বাংলায় ভিড় করছেন । আর বড়শির টোপ তো ওপার বাংলার সিনে-স্পেশালিস্টরা দিয়েই রেখেছিলেন । 
 
স্বার্থের টানে জয়া আহসানরা এভাবেই দেশেকে হেয় করে
কোলকাতায় হোলি উৎসবে জয়া আহসান

আমার মতো সাধারণ মানুষরা ভেবেছিলো, চলচ্চিত্রের খাতিরে যদি দুই বাংলার সম্পর্ক বৃদ্ধি পায়, তাহলে তো ভালই হয় । এরকমটি হয়তো চঞ্চল চৌধুরী, মোস্তফা সারোয়ার ফারুকীসহ অনেকেই ভেবেছিলেন ।
কিন্তু কে জানতো দেশপ্রেমিকের আড়ালে নব্যরাজাকারের মুখ লুকিয়ে আছে?

যে মানুষগুলো নিজের স্বার্থের টানে, নিজের ক্যারিয়ারের টানে দেশকে বলি দিতে পারে, সে আর যাইহোক, আমার কাছে নব্যরাজাকার !

জয়া আহসান ঠিক এরকমটিই করেছেন । বাংলামেইল২৪ ডট কম থেকে জানা গিয়েছে জয়া আহসান ভারতীয় গণমাধ্য টাইমস অব ইন্ডিয়াকে জানিয়েছেন তিনি ক্রিকেট বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের খেলায় ভারতেরই সমর্থন করবেন। এবং তার প্রিয় দল ভারত। তিনি ঐ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি খুশি হতাম বাংলাদেশ জিতলে। তবে আমি হেরে যাওয়াতে ভেঙে পড়িনি। বাংলাদেশ দল নতুন হওয়ার পরও ভালো খেলেছে নিউজিল্যান্ড, এবং ভারতের মতো দলের সঙ্গে।
তাছাড়া ইদানীং জয়া আহসান নিজেকে কোলকাতার অভিনেত্রী হিসেবে ভাবা শুরু করেছেন ।

শফিক তুহিনের প্রতিক্রিয়াঃ পাতানো মাসীমার হাতে চোখের সামনে সদ্য খুন হওয়া মায়ের মৃত্যুতে যার মাঝে বিন্দুমাত্র শোক আর গ্লানিবোধ নাই তাকে আর কি বলা যায়?

-ইলিয়াস আহমেদ

গণধর্ষণের শিকার এক সৌদি নারীকে ২০০ বেত্রাঘাতের নির্দেশ !



গণধর্ষণের শিকার হওয়ার পর তা সংবাদমাধ্যমের সামনে প্রকাশ করার কারণে সৌদি ১৯ বছর বয়সী এক তরুণীকে ২শ বেত্রাঘাতের পাশাপাশি ৬ মাসের কারাদন্ডের নির্দেশ দিয়েছে সেদেশের আদালত । (সূত্র: ফেইথ ফ্রিডম, দি বাংলাদেশ টুডে)
 
গণধর্ষণের শিকার এক সৌদি নারীকে ২০০ বেত্রাঘাতের নির্দেশ
গণধর্ষণের শিকার এক সৌদি নারীকে ২০০ বেত্রাঘাতের নির্দেশ

একে তো ঐ তরুণী ৭ জন দ্বারা গণধর্ষণের শিকার হয়েছে । তার উপর ধর্ষকদের বিচার না করে ঐ তরুণীকেই ২০০ বেত্রাঘাতসহ ৬ মাসের কারাদন্ডের নির্দেশ ! এ যেনো মজলুমের উপর আরো জুলম ।
যে ইসলাম নারীকে আইয়্যামে জাহেলিয়াতের যুগ থেকে রক্ষা করে জান্নাতের অধিকারিণীতে রূপান্তরিত করেছে, যে ইসলামের মেয়েরা মহমানব রাসূল সাঃ এর কাছে ফাতেমার ন্যায় আদরণীয়া, কলিজার টুকরা, যে ইসলামে নারীদেরকে এতো বেশি স্বাধীনতা দিয়েছে- পুরুষের সাথে সব রকম ইবাদতে যেমন- নামাযে, যুদ্ধে, চিকিৎসা প্রদান, শিক্ষায়, সফরে সর্বত্রে অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে, সেই ইসলামের আজকের কথিত ধারকবাহকেরা আকাশের ন্যায় বিশাল ইসলামকে আপাদমস্তক হিজাবে, ঘরের চারকোণায়, নেকাব-দাঁড়ি-টুপি-টাখনুর উপর কাপড় পড়ানোতে বন্দী করে রেখেছে । 

খোদ সৌদি আরবেই আজকে আর ইসলাম নেই । সেখানে ইসলামের নামে যা চলছে, সেটা আল্লাহ-রাসূলের দেয়া ইসলাম নয় । যদি তাই হতো, তাহলে সেখানে আজকে ইসলামের নামে যা হচ্ছে তার জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সকল সৃষ্টির কাছে দায়ী থাকবেন । (নাউযুবিল্লাহ)

আল্লাহর দেয়া ও তাঁর রাসূলের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ইসলাম যদি এমনই হতো তাহলে আল্লাহর রাসূল সাঃ কখনোই তাঁর আসহাবদের এরকম স্বপ্ন কখনোই দেখাতেন না যে, এমন এক সময় আসবে যখন এই আরবে মধ্য রাতে অতি সুন্দরী নারী গা ভর্তি অলংকার পড়ে হাজার হাজার মাইল একাই পাড়ি দিবে, তবু সে নারীর মনে না থাকবে সম্ভ্রম হারানোর ভয় না থাকবে অলঙকার হারানোর ভয় । রাসূল সাঃ এরকমটি স্বপ্ন শুধু তাঁর আসহাবদের দেখিয়েই ক্ষান্ত ছিলেন না । ইতিহাস সাক্ষী, রাসূল সাঃ তাঁর জীবদ্দশায় আরবে সেই ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ।    

অথচ আজকের খোদ সৌদিতে নারীদের দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করা হয় । সেদেশের প্রতিষ্ঠিত শরীয়াহ অনুযায়ী, কোনো নারী ঘর থেকে বের হলে তার সাথে কোনো পুরুষ অভিভাবক নিয়ে বের হতে হবে, অন্যথায় তার শাস্তি । উক্ত নারী ধর্ষণের শিকারের আগে অনাত্মীয় এক যুবককে নিয়ে বাইরে বের হন । পথিমধ্যে হঠাৎ আক্রমণের শিকার হোন ঐ নারী ও যুবক । আক্রমণকারীরা তরুণী ও তার বন্ধুকে গাড়ি থেকে নামিয়ে তরুণীকে সাত ব্যক্তি মিলে গণধর্ষণ করে এবং তার বন্ধুর উপর চালায় শারীরিক নির্যাতন । 

ধর্ষণ পরবর্তীতে তরুণী উক্ত ঘটনার সত্যতা জানিয়ে সৌদি দেশের এর বিচার চাইলে উল্টো ঐ নারীর উপরেই এ মর্মে ৯০ টি বেত্রাঘাত শাস্তির নির্দেশ দেয়া হয় যে, আত্মীয় অভিভাবক ছাড়া ঘর থেকে বাইরে একা বের হয়ে ঐ দেশের শরীয়াহ ভঙ্গ করেছে । এরপর ওই তরুণীর আইনজীবী উচ্চ আদলতে আপিল করলে আদালত তার শাস্তি বাড়িয়ে দ্বিগুণ করে দেয়। সুবিচার না পেয়ে বরং অবিচার পেয়ে যখন ঐ তরুণী উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে সংবাদ মাধ্যমে আদ্যন্ত প্রকাশ করলে আদালত তার আইনজীবিকে তার কেস লড়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তার লাইসেন্স কেড়ে নেয় এবং তার বিরুদ্ধে সমন জারি করে।

এক বিবৃতিতে বিচার মন্ত্রনালয় এই শাস্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ওই নারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এবং তিনি আদালতের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হওয়ায় তার শাস্তিকে দ্বিগুণ করা হয়েছে।

ইসলামে কী হাস্যকর আর বর্বর নীতি স্থাপন করেছে সেদেশের ধর্মের ধারক-বাহকেরা ! 

প্রথমত, তারা সেদেশে নারীর সম্মান দিতে জানেনা, যার কারণে নারীদেরকে তারা দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করে । 

দ্বিতীয়ত, নারীদের নিরাপত্তা দিতে পারেনা, যার কারণে অভিভাবক নিয়ে বের হওয়ার মনগড়া শরীয়াহ বের করেছে । 

তৃতীয়ত, ধর্ষকদের বিচার না করে ধর্ষিতার উপর শাস্তি চাপিয়ে দিয়ে বিশাল অন্যায় করেছে । মানবতার বুকে লাথি মেরেছে । আদলের পরিবর্তে স্বৈরাচার স্থাপন করেছে । 

এই যদি হয় ইসলাম, সে ইসলামের অনুসারীরা যারা নিজেকে মুসলিম দাবি করে জান্নাতে যাবার স্বপ্ন দেখেছেন, তারা নিশ্চয় মূর্খের স্বর্গে বাস করছেন । আপনাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে আযাব আসা, মাত্র সময়ের ব্যাপার । 

-ইলিয়াস আহমেদ

সময়ের প্রয়োজনঃ সিস্টেম পাল্টানোর যুদ্ধ


‘নিজ ভালো তো জগত ভালো’ এ কথাটার সত্যতা নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে । জীবনে অনেক চেষ্টা করেছি ভালো থাকতে কিন্তু পারিনি । জানি, আপনারা বলবেন এটা আমার ব্যর্থতা । আপনাদের চোখে হয়তো সেটাই ঠিক । সত্যিই বলছি, অনেক চেষ্টা করেছি ভালো থাকতে, আমাকে ভালো থাকতে দেয়নি পরিবেশ-পরিস্থিতি । প্রাকৃতিকসত্তা কখনোই পরিবেশের বিরুদ্ধে অবস্থান করে বেঁচে থাকতে পারেনা । কারণ প্রত্যেক পরিবেশ নিয়ন্ত্রিত হয় একটা না একটা সিস্টেমের দ্বারা । তাই পরিবেশের ভালো-মন্দ নির্ভর করবে সেই সিস্টেমের উপর । সিস্টেম যদি হয় মানবতাহীন সেই সিস্টেমের অন্তর্গত পরিবেশের কাছে মানবতা প্রত্যাশা করাটা নিতান্তই বোকামি ।
যে কেউ চাইলে সেই সিস্টেমে মানবতা দেখতেও পারে আবার দেখাতেও পারে । তবে সেটা মানবতার মোড়কে আবৃত অমানবিক, মিথ্যা-ছলনাতে পরিপূর্ণ ছাড়া কিছুই নয় ।
আজকের এ পৃথিবীতে যার অভিযোজন ক্ষমতা নেই তার বাঁচার অধিকারও নেই, বাঁচলেও স্বগোত্রের দাস হয়ে থাকতে হবে । হার্বাট স্পেন্সারের মতবাদই আজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সর্বত্র । বাঁচামরার প্রতিযোগিতায় সবলেরাই বেঁচে থাকবে চিরকাল । এখন সবলেরা যদি হয় অসুর প্রকৃতির, মিথ্যাতে প্রতিষ্ঠিত, স্বার্থপর তবে দুর্বলের উপর সবলের অত্যাচার, দরিদ্রের ওপর ধনীর বঞ্ছনা, শোষণ, শাসিতের ওপর শাসকের অবিচার, ন্যায়ের ওপর অন্যায়ের বিজয়, সরলের ওপর ধূর্তের বঞ্ছনা অস্বাভাবিক নয় । এটাই আজ সারাপৃথিবীতে পরিলক্ষিত হচ্ছে, এর ব্যত্যয় খুবই কম । কারণ পৃথিবী আজ প্রতিযোগিতায় বিশ্বাসী, সহযোগিতায় নয় ।

স্ব স্ব অবস্থান থেকে সবাই আজ শান্তি চায় । কিন্তু তাদের চাওয়া পাওয়া আহাজারি, প্রার্থনা, লেখালেখি, প্ল্যাকার্ড-ব্যানারেই সীমাবদ্ধ । সর্বোচ্চ সেটা একক গোষ্ঠীয় সশস্ত্র আন্দোলনে রূপ নেয় । কিন্তু তাতে করে আজকের দিনে কোনো শান্তিতো আসছেইনা বরং একদিকে যেমন বাড়ছে অশান্তি, আরেকদিকে শান্তিকামী মানুষের কাছে সেই সশস্ত্র আন্দোলনের গ্রহণযোগ্যতা হারাচ্ছে যুক্তিসংগত ভাবেই । যুক্তিসংগত বললাম এ কারণে যে, আজকের দিনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এতোটাই সাফল্য লাভ করেছে ঘরে বসেই একটা সুইচ টিপলেই স্যাটেলাইট থেকে পৃথিবীর বুকে নিক্ষিপ্ত হবে অত্যাধুনিক পারমাণবিক বোমা । পারমাণবিক বোমার ক্ষমতা আজকালকার ছোট ছোট বাচ্চারও জানা আছে । আজকের দিনে যুদ্ধক্ষেত্র বলতে সমগ্র পৃথিবী, কিচেন রুম (রান্নাঘর) পর্যন্ত বাদ যাবেনা । তার উপর পরাশক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর কাছে যে পরিমাণ পারমাণবিক অস্ত্র মজুদ আছে তা দিয়ে যুদ্ধ শুরু হলে নিমিষেই ধ্বংস হবে এ পৃথিবী । পারমাণবিক অস্ত্র বাদ দিলেও কেবলমাত্র জীবাণু অস্ত্র দিয়েই এ পৃথিবীটাকে কয়েকঘন্টায় মানবহীন করে দেয়া সম্ভব । এতোকিছু চিন্তাকরে কোনো সুস্থবান ব্যক্তিই কল্পনা করতে পারেন না যে, সশস্ত্র আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা আছে, সমর্থন দেয়াতো দূরের কথা ।

যুদ্ধ কখনোই কাম্য নয় । তবু যুদ্ধ করতে হয়, বিশ্বমানবতার জন্য, শান্তির জন্য । তাই বলে আমি সশস্ত্র যুদ্ধের কথা বলছিনা । আজ এমন একটা যুদ্ধের প্রয়োজন যার কাছে অত্যাধুনিক পারমাণবিক অস্ত্রের কোনোই দাম নেই । দাম নেই বায়োওয়্যারের । যে যুদ্ধে প্রয়োজন হবেনা কোনো সামরিক অস্ত্র । যে যুদ্ধে নাশকতার কোনো বালাই থাকবেনা, থাকবেনা প্রাণহানি, তবে শান্তিপক্ষের প্রাণহানি ঘটতেই পারে, যোদ্ধাদের এতোটুকুন বিসর্জন আন্দোলনে দিতেই হবে ।

এই যুদ্ধটা আজ খুবই প্রয়োজন । কারণ মিথ্যাতে পরিপূর্ণ, শান্তিতের অন্তরায় এক ভয়ংকর সিস্টেম পৃথিবীর পরিবেশকে করেছে কলুষিত, অন্যায়ে পরিপূর্ণ, ছলনায় ভরপুর । এই ভয়ংকর সিস্টেম সারাপৃথিবীকে এমনভাবে আষ্টেপৃষ্ঠে ধরে আছে সবাই যেনো তার দৈহিক-মানসিক দাস । সে যাই করতে বলে তাই আমরা করি, সে যেটাই ভাবায় সেটাই আমরা ভাবি, সে যে স্বপ্ন দেখায় সেই স্বপ্নে আমরা থাকি বিভোর । সে যেটাকে অন্যায় বলে সেটাকেই আমরা অন্যায় বলে জানি । অথচ সে যেটাকে মিথ্যা বলে সেটাই সত্যি । সে যেটাকে অশান্তির কারণ বলে, সেটাই শান্তির কারণ । আমাদের চিন্তাভাবনা, আরাধনায় আজ সেই সিস্টেম বিরাজ করছে । তার হুকুমেই চলছে সমগ্র পৃথিবী । যেনো এক আসুরিক ঈশ্বরের রাজত্ব চলছে পৃথিবীর বুকে । এই ভয়াল সিস্টেম থেকে কেউ রেহায় পায়নি । যেখানে মিথ্যায়. ধূর্ততায়, প্রবঞ্চনায়, অন্যায়ে পৃথিবীকে আচ্ছাদিত করে ফেলেছে সে, সেখানে আমার ভালো থাকা মানে বিশাল আগুণের কুন্ডলীতে একফোটা জলের অস্তিত্ব টিকে থাকা । মানুষ তার স্ব স্ব অবস্থান থেকে প্রতিনিয়ত চেষ্টা করছে ভালো থাকার, কিন্তু পারছে কই?

যে সিস্টেম আমাদেরকে ভালো থাকতে দিচ্ছেনা, আমাদেরকে অশান্তির অনলে দিবারাত্রি পুড়িয়ে মারছে, যে সিস্টেম আমাদেরকে বাধ্য করছে অসৎ হওয়ার জন্য, যে সিস্টেম আমাদেরকে উপহার দিচ্ছে একেকটা ঐশী, সেই সিস্টেমকে পাল্টানো আজ জরুরী হয়ে পড়েছে । যে সিস্টেমের কারণে শিক্ষিত পরিবারে শিক্ষিত গৃহবধূ মেহজাবিন পর্যন্ত শারীরিক-মানসিক নির্যাতন থেকে রেহায় পায় না, রেহায় পায়না কাজের মেয়ে যে কিনা শুধুমাত্র দরিদ্রের জন্য পাষবিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে; যে সিস্টেম থেকে রেহায় পায়না সাগর-রুনি-বিশ্বজিৎরা সেই সিস্টেম পৃথিবীতের রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই । যে সিস্টেম দরিদ্রকে আজীবন দরিদ্র রেখে দানখয়রাত-ভিক্ষা দিয়ে বাঁচিয়ে রেখে সমাজে নিজেকে দানবীর বলে জাহির করতে চায়, সৃষ্টিকর্তার কাছে মুত্তাকী সাজতে চায়; যে সিস্টেম নারীকে আবদ্ধ রাখতে চায় চারদেয়ালের মাঝে কিংবা যে সিস্টেম নারীকে নগ্ন করে ভোগ্যপণ্য এবং সামাজিক বিশৃঙ্খলা করতে চায় সেই সিস্টেম কখনোই মানবতাবাদী নয় । যে সিস্টেম ইসলামী মিলিশিয়ান্টদের ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে এবং তা সত্ত্বেও তাদের সাথে লুকোচুরি খেলে বাকি পৃথিবীরে সাধারণ মানুষগুলোর প্রাণহানি করছে; আবালবৃদ্ধাবণিতার উপর অবরোধ চাপিয়ে দিচ্ছে; ইসলামকে সারাবিশ্বের সামনে সন্ত্রাসী ধর্ম হিসেবে উপস্থাপন করছে সেই সিস্টেম কখনোই শান্তিকামী নয় । যে সিস্টেমের কারণে আজ পুরুষদের লোলুপ দৃষ্টি থেকে রেহায় পাচ্ছেনা নারী, শিশু, কন্যা, কিশোর কেউই এমনকি নিজের মা-বোন-সন্তান পর্যন্ত সেই সিস্টেম কখনোই সভ্যতার দাবিদার হতে পারে না । যে সিস্টেমের কারণে মানুষ আজ অনৈক্যে জর্জরিত, দলাদলিতে খুনাখুনিতে পবিত্রভূমি করেছে অপবিত্র, একে অপরেরর দোষারোপে জাতিতে জাতিতে সৃষ্টি করেছে ঘৃণা, বিরোধ, বৈষম্য; যে সিস্টেম পৃথিবীকে কাঁটাতার আর প্রাচীরে খন্ডবিখন্ডিত করেছে সেটা কখনোই স্বাধীনতাকামী হতে পারে না ।

তাই সময়ের প্রয়োজনে আজ এমন একটা যোদ্ধাদলের প্রয়োজন যারা রচনা করবে বজ্রশক্তির বূহ্য, যাদের ঢাল হবে সীসা ঢালা প্রাচীরের ন্যায়, যাদের বূহ্য ভেদ করতে পারবেনা সেই মিথ্যাশ্রিত সিস্টেম । আজ এমন একটা বূহ্যের প্রয়োজন যা হবে মহাসত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত । যাদের সাথে পৃথিবীর থাকবে চতুর্মাত্রিক বিরোধিতা, বৈপরীত্যতা, অথচ থাকবে স্রষ্টার অপার সাহায্য; সেই মহাসত্য দেখে মিথ্যা ধূলিস্মাত হয়ে যাবে । আজ এমন একটা আদর্শের প্রয়োজন যা হবে মহাসত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত, এই সত্যই প্রচলিত সিস্টেমের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াবে । কারণ আজ পৃথিবী যে সিস্টেমের উপর দাঁড়িয়ে আছে সেই সিস্টেম মিথ্যার উপর প্রতিষ্ঠিত । ছলনাময়ী, মিথ্যাশ্রয়ী সিস্টেম মহাসত্য দেখে তাসের ঘরের মতো ভেঙ্গে পড়বে । সেদিন মহামিথ্যুক সিস্টেমের অত্যাধুনিক অস্ত্র নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে । অস্ত্র পরে রবে অস্ত্রাগারে । মানুষ সেদিন ভুল করেও সেই অস্ত্র মানুষের সামনে তাক করবেনা । কারণ সত্য ‍সুন্দর । সত্যই শান্তি । সত্যই স্বর্গ । সত্যই স্রষ্টা ।

লেখক
ইলিয়াস আহমেদ

জঙ্গিবাদ! গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার নির্বোধ মোসলেম জাতি


অস্ত্র কেনো রাখা হয়? চোর ডাকাত ধরার জন্য? নাকি সন্ত্রাসবাদ ধ্বংস করার জন্য?

জানি প্রশ্নটা অসম্পূর্ণ হয়ে গেছে । এর উত্তর কেবল শর্তানুসারেই দেয়া সম্ভব ।
যেমন চোর ডাকাতকে ধরতে নিশ্চয় ড্রোন বিমান, মিশাইল, রাসায়নিক অস্ত্র, পারমাণবিক অস্ত্র লাগেনা?

তাহলে এসব রাখা হয় কেনো? যাদের কাছে এসব অত্যাধুনিক মারণাস্ত্রগুলো আছে, তারা এককথায় উত্তর দেবে সন্ত্রাসবাদ ধ্বংস করে পৃথিবীতে শান্তি আনার জন্য ।

প্রশ্নের এধরণের উত্তর শোনেই আমরা অভ্যস্ত ।

শান্তিকামী মানবতাবাদীদের মন ভোলানো কথা শোনার আগে পরিসংখ্যানে দেখে নিই, কারা এই অত্যাধুনিক মারণাস্ত্রের স্রষ্টা ও সরবরাহকর্তা ?

বিশ্ব অস্ত্র বাণিজ্যে ৩০ শতাংশ অংশদারীত্ব নিয়ে প্রথম অবস্থানে আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ২৬ শতাংশ অংশদারীত্ব নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে রাশিয়া । এ তালিকায় তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে আছে যথাক্রমে জার্মানি, ফ্রান্স ও চীন ।
[সূত্র: www.theholytimes.com/front/viewnews/1061]

অস্ত্র বাণিজ্য শব্দটা যখন এসে গেছে তখন এর প্রায়োগিক ক্ষেত্রের প্রসঙ্গটা এড়ানোর সুযোগ নেই । প্রশ্ন না করতেই প্রতিপক্ষের কাছ থেকে আমরা যে উত্তর পাবো তা হোলো-
সন্ত্রাসবাদ দমনের জন্য জাতিসংঘ কর্তৃক শান্তিরক্ষীবাহিনী, বিশেষ সৈন্যবাহিনী প্রেরণের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে সন্ত্রাসবাদ-জঙ্গিবাদ দমন, গৃহযুদ্ধের অবসান ইত্যাদি।

এটা কাউকে বলে দিতে হবেনা যে, যতো রকম জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ ইস্যু আছে তা সিংহভাগেরেও অধিক মধ্যপ্রাচ্যকে ঘিরে ।
মধ্যপ্রাচ্যের নাম শুনলেই সারা পৃথিবীর চোখের সামনে ভেসে আসে জঙ্গি সংগঠন গুলোর জঙ্গিবাদের চিত্র ।
কানে ভেসে আসে জেহাদ নামের বিষাক্ত একটা উচ্চারণ । আর মুখ ভরে থুথু আসে ঐ জেহাদী কট্টরপন্থী মোসলেমদের হাতে অস্ত্র দেখে । শান্তি প্রিয় মোসলেমরা কানে আঙ্গুল গুঁজে বলে ইসলাম শান্তির ধর্ম ।
কারো যেনো কোনো দায় নেই; সব দায় বুঝি ঐ জঙ্গিদের, মোসলেম জাতিটির !

অথচ যুক্তরাষ্ট্র জঙ্গিবাদ দমনকরার নামে অথবা পারমাণবিক অস্ত্ররাখার সন্দেহবশত অথবা সরকারপক্ষের সাথে বিরোধীপক্ষের গৃহযুদ্ধ থামানোর কথা বলে যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে দেয় । কিন্তু দেখা যাবে তাদের চাপিয়ে দেয়া গণতন্ত্রের ফলেই মোসলেম দেশে গৃহযুদ্ধের সৃষ্টি । জঙ্গিবাদ দমনের নামে যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের বাড়িঘর উড়িয়ে দিয়ে কবরস্থানে পরিণত করে । বাদ যায় না নারী শিশু । ধর্ষণের চিত্র মিডিয়ায় ভেসে আসেনা । শিরোনামে ভাসে শুধু "জঙ্গিবাদ দমনে যুক্তরাষ্ট্রের সফল অভিযান !" আর জাতিসংঘ মুচকি হাসিতে সাফল্যের পোজ দেয় ।

এতো বড় অন্যায়ের ক্ষীণকন্ঠে সামান্য প্রতিবাদ আসলেও প্রভূত্বের তাবেদারির বাতাসে তা মিশে যায় । বিশ্ববিবেক তখন যেনো অট্টহাসি দিতেও ভয় পায়।

ওদিকে নিঃস্ব-অসহায়-নির্যাতিত-গৃহহারা মোসলেম জাতিটি থেকে প্রতিবাদ স্বরূপ জন্ম নয় এক একটা সশস্ত্র ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গোষ্ঠী । পরবর্তীতে যাদের নাম হয় তালেবান, আল কায়েদার মতো জঙ্গি দল ।
সম্প্রতি একটা ভাষণে হিলারি ক্লিনটন নিজেই স্বীকার করে বলেছেন, "We created Al-Qayeda"
[সূত্র: www.youtube.com/watch?v=Dqn0bm4E9yw]

আল কায়েদা যে যুক্তরাষ্ট্র দ্বারা মদদপুষ্ট, এসম্পর্কে Michel Chossudovsky এর দেয়া সাক্ষাতকারকে উড়িয়ে দেয়া যায়না ।
[সূত্র: www.globalresearch.ca]

ইরাকের ISIL জঙ্গি সংগঠন সম্পর্কে লেবাননের দৈনিক আদ দিয়ার পত্রিকাটি সম্প্রতি চাঞ্চল্যকর খবর প্রকাশ করেছে । বলা হয়েছে সংগঠনটির নেতা আবু বকর আল বাগদাদী ইহুদি পরিবারের সন্তান । তার প্রকৃত নাম শামউন ইয়লুত । এ তথ্যের সূত্র বেরিয়েছে আমেরিকার জাতীয় গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থা NSA'র সাবেক কর্মকর্তা এডওয়ার্ড স্নোডেনের ফাঁস করা দলিল-দস্তাবেজ থেকে ।
এর আগেও স্নোডেনের ফাঁস করা দলিল থেকে জানা গেছে, ইসরাঈলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ কথিত আবু বকর আল বাগদাদীকে এক বছর ধরে ধর্মীয় ও সামরিক বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছে এবং জেহাদ ও ইসলামের নামে ইসরাঈলের নিরাপত্তাবিরোধী বিশেষতই মোসলেম দেশগুলোতে সন্ত্রাস সৃষ্টির জন্যই ব্রিটেনের গোয়েন্দা সংস্থা MI-6, ইসরাঈলের মোসাদ ও যুক্তরাষ্ট্রের NSA-এর তত্ত্বাবধানে জন্ম দেয়া হয়েছে ISIL-এর ।

অর্থ্যাৎ ব্রিটেন -যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাঈলের ঔরসে জন্ম নিলো জঙ্গি সংগঠন ISIL.

এটার যে যথার্থই সত্যতা রয়েছে, তার প্রমাণ মেলে আল-জাজিরা খবরে । সেখানে গত ২২.০৬.২০১৪ তারিখের টাইমলাইনে বলা হয় ISIL using US vehicles to fight Syria rivals. তার মানে যুক্তরাষ্ট্রের মদদে তাদের দেয়া অস্ত্রেই ইরাকসহ সিরিয়াতে সন্ত্রাসী চালাচ্ছে ISIL.

অথচ এই সন্ত্রাসদের দেশ থেকে উৎখাত করার জন্য যখন ইরাকের প্রধাণমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অস্ত্র কিনতে চেয়েছিলো, যুক্তরাষ্ট্র নাকচ করে দিয়েছিলো ।
[সূত্র: আল জাজিরা, টাইমলাইন: ১২.০৬.২০১৪]

যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে বিশ্ব বাজারে অত্যাধুনিক অস্ত্রের চাহিদা বাড়িয়ে দেয়া হয় । যখনই কোনো বড় ধরণের ধ্বংসযজ্ঞের আয়োজন করা হয়, তখন বিশ্বায়ন প্রতিযোগিতায় নিজেদের অস্তিত্বকে টিকে রাখা ও নিরাপত্তার তাগিদে ইরান,ভারত, পাকিস্তানের মতো দেশগুলোও পারমাণবিক ও অত্যাধুনিক অস্ত্র পুঁজিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে । অস্ত্র বাণিজ্যে ঠিক এসময়ে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার বেড়ে যায় । তবে অস্ত্র রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্রই এগিয়ে । একটা কথা মনে রাখতে হবে অস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলেই অস্ত্রের চাহিদা বাড়বে ।আর এ চাহিদার যোগান ঐ দেশগুলোই দিয়ে থাকে । অস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা সৃষ্টি করতে হিরোশিমা, নাগাসাকি, ইরাক, আফগানিস্তান, সিরিয়া, ভিয়েতনাম, গাজার মতো ভূখন্ডকে ঝলসিয়ে দেয়া হয় । তালেবান, আইএসআইএল,আলকায়েদার মতো জঙ্গি সংগঠন তৈরি করে, তাদের হাতে অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র দিয়ে মোসলেম দেশগুলোতে অরাজকতা, সন্ত্রাসবাদের সৃষ্টি করা হয় । বাধ্য হয়ে সে দেশগুলোর রাষ্ট্র প্রধাণ জঙ্গিবাদকে নির্মূল করতে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীনের কাছে অস্ত্র কিনতে আগ্রহী হয় । যেমনটি ISIL কে নির্মূল করতে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মালিকি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অস্ত্র কিনতে গিয়েছিল ।

এথেকে কি বোঝা যায় না, সন্ত্রাসবাদ দমন নয়, জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে অস্ত্রবাণিজ্য ও অন্যান্য সুবিধা গ্রহণ করাই যূক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য ?

যুক্তরাষ্ট্রই যে মানবতার বিপক্ষে তার প্রমাণ সম্প্রতি গাজা ইসরাঈল যুদ্ধেই প্রমাণ মেলে ।
জাতিসংঘসহ সমগ্রবিশ্ব যখন গাজার পক্ষে তখন যুক্তরাষ্ট্র ইসরাঈলের কাছে সামরিক অস্ত্র বিক্রি করছে।
[খবর মানবজমিন: ৩১.০৭.২০১৪]

আমরা যদি অতীতের দিকে
লক্ষ্য করি, তাহলে দেখা যাবে ১৯৪৫ সালের ৬ ও ৯ আগস্টে যথাক্রমে হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক বোমা ফেলে । লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটে । প্রতিবন্ধীর সংখ্যাটা তারচেয়ে কয়েকগুণ বেশি। হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদ কিছুই ছিলোনা। তাহলে সেখানে কেনো মারণাস্ত্রের আঘাত হানা হলো?
ভিয়েতনাম যুদ্ধের কথা মনে আছে? ঐ যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী অ্যাজেন্ট অরেঞ্জ ব্যবহার করে এক ভয়ংকর হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিলো? নাম দিয়েছিলে "অপারেশন রেঞ্চ হ্যান্ড ।"
এ যুদ্ধে ৪ লক্ষ মানুষ নিহত ও পঙ্গু হয় আর ৫ লক্ষ শিশু জন্ম নেয় প্রতিবন্ধী হয়ে। তখন কোথায় ছিলো তাদের মানবতা? কোথায় ছিলো জঙ্গিবাদ দমনের বুলি আওরানো? কোনো উত্তর দিতে পারবে কি?

আসলে এরাই মানবতার মোড়কে জঙ্গিবাদ বিক্রি করে ।


এই জঙ্গি সংগঠনগুলোর সবাই যে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাঈল ব্রিটেনের মদদপুষ্ট তা কিন্তু নয় । কিন্তু কথা হচ্ছে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে তারাই জঙ্গিসংগঠনের স্রষ্টা । যার সত্যতা হিলারি ক্লিনটনের বক্তব্য, স্নোডেনের ফাঁসকৃত তথ্য, আলজাজিরার নিউজ ইত্যাদিতে নিহিত রয়েছে ।
এই জঙ্গিবাদ ধীরে ধীরে পৃথিবীর প্রায় সবদেশেই ছড়িয়ে পড়ে । জন্ম নেয় অসংখ্য জঙ্গি সংগঠনের । জঙ্গিবাদকে তখন আর কেউ ষড়যন্ত্রের ফল হিসেবে দেখেনা, বিবর্তনে জঙ্গিবাদ হয়ে যায় আদর্শ । আর এই আদর্শে সবাই এসলামকে ছিঃ ছিঃ বলে ।
কারণ হিসেবে নিন্দুকেরা বলে কোরানে জেহাদের কথা আছে, কেতালের কথা আছে, শহীদের কথা আছে, হুরপরী পাওয়ার প্রতিশ্রুতি আছে ইত্যাদি ইত্যাদি ।

কিন্তু তাদের চোখে ভাসেনা যে, কোরানে সন্ত্রাসবাদ-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বলা আছে ।
[কোরান: সূরা বাকারাহ-(১২,১৩), ২৭, ৩০, ৬০ সহ বহু আয়াত]

তাহলে আল্লাহ তবু কেনো জেহাদ-কেতালের কথা উল্লেখ করেছেন?
এ প্রশ্ন কি নিন্দুকের মনে জাগেনা?
জেহাদ, কেতাল ও সন্ত্রাস যে এক জিনিস না, তা মোসলেম জাতিটি ভূলেই গেছে । তাই তারা বারবার ইহুদি খৃষ্টানদের গভীর ফাঁদে পা দিচ্ছে । আর বিশ্ব মানুষের কাছে এসলামের নাম হয় সন্ত্রাসী ধর্ম ।

[জেহাদ, কেতাল ও সন্ত্রাস যে একজিনিস নয়, তা জানতে মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নীর লেখা "জেহাদ, কেতাল ও সন্ত্রাস" বইটি পড়তে পারেন ]

আধিপত্যকামী শক্তিগুলোর গভীর ষড়যন্ত্রের আভাস বুঝতে পেরে ISIL এর সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে বলতে গিয়ে ইরানের বিশিষ্ট আলেম ও তেহারানের জুম্মা সালাহর অস্থায়ী খতিব আয়াতুল্লাহ মুহাম্মদ আলী মুওয়াহহিদি কিরমানি জুম্মার খুতবায় তা উল্লেখ করেন । তিনি শুধু ইরাকে আইএসআইএল-এর সন্ত্রাসবাদ ও গাজার উপর ইসরাঈলের আক্রমণকে উল্লেখ করে বলেন, আজকাল ইরাকে যা ঘটছে তা শিয়া-সুন্নীর দ্বন্দ্ব না, বরং মানুষকে হত্যা ও মানুষকে সহায়তার মধ্যে দ্বন্দ্ধ ।

তিনি বিশ্বের সকল ফেরকা মাযহাবের মোসলেমদের ঐক্যবদ্ধ হতে আহ্বান করেন ।

সত্যিকার অর্থেই আয়াতুল্লাহ কিরমানির এ আহ্বান অত্যন্ত যৌক্তিক । এখনো যদি বিশ্বের মোসলেমজাতিটি সহ অন্যান্য জাতিগুলো এই আধিপত্যবাদী ও মানবতার মোড়কে আবৃত ধূর্তবাজদের বিরুদ্ধে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ না হয়, তবে গাজা, ফিলিস্তিনি, হিরোশিমা, নাগাসাকি, ভিয়েতনামসহ প্রভৃতি ভূখন্ডের মানুষদের মতো নির্যাতিত, নিপীড়িত, ধর্ষিত হয়ে মরতে হবে । প্রত্যেকের স্বদেশ মৃত্যু উপত্যাকায় রূপ নেবে । মানবতার যেটুকু আছে সেটাও হারিয়ে যাবে পারমাণবিক, রাসায়নিক, জীবাণু যুদ্ধের দামামায় ।

লেখক
ইলিয়াস আহমেদ

ধর্মবিশ্বাস: এক বৃহৎ সমস্যার সহজ সমাধান


 শুরুতেই আমি কয়েকটি মৌলিক ও অকাট্য সত্যের দিকে পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করব। সেটা হচ্ছে,

১) বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ধর্মকে খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই কেননা বিশ্বরাজনীতিতে ধর্ম এখন প্রধান নিয়ামক (Prime factor), এক নম্বর বিচার্য বিষয় (First issue)। ধর্ম থেকেই সৃষ্ট জঙ্গিবাদ যা বর্তমানের মানবজাতির ক্যান্সার হিসাবে বিবেচিত, ভোটের রাজনীতিতে ডানপন্থী ও রক্ষণশীল দলগুলোর প্রধান হাতিয়ারও সেই ধর্ম। পৃথিবীর বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে এই ধর্মভিত্তিক রাজনীতির পালে দমকা হাওয়া লেগেছে যা সেক্যুলার দলগুলোর জন্য প্রধান সংকট বলে মনে করা হচ্ছে।

২) পশ্চিমা বস্তুবাদী ধ্যানধারণা দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ধর্মকে একেবারে বাদ দিয়ে রাষ্ট্রীয় জীবন পরিচালনা করার যে চিন্তা ও চেষ্টা করা হয়ে থাকে সেটা বাস্তবমুখী নয়, কারণ পৃথিবীতে গুটিকয় নাস্তিক ছাড়া আর সকলেই স্রষ্টার অস্তিত্বে, কোনো না কোনো ধর্মে এবং পরকালীন জীবনে বিশ্বাস রাখে। তাদের এ বিশ্বাস অস্থি-মজ্জায় মিশে আছে যা প্রতিনিয়ত তাদের চিন্তা-চেতনা ও কার্যকলাপে প্রভাব বিস্তার করে। ধর্মব্যবসায়ীদের কবলে পড়ে ধর্মের প্রকৃত রূপ হারিয়ে যাওয়ায় বিকৃত ধর্মগুলো মানুষের জন্য শান্তিদায়ক নয়, উপরন্তু ধর্ম নিয়ে হাজারো অপকর্ম ও বিকৃতি প্রচলিত আছে বিধায় অনেক মানুষ ধর্মীয় আচার-আচরণ ও পুরোহিত-আলেমদের ধ্যানÑধারণার প্রতি বিরক্ত, অনেকেই ধর্মের প্রতি নিষ্ঠা হারিয়েছে কিন্তু নাস্তিক হয় নি। সুতরাং ধর্মকে জাতীয় জীবন থেকে বাদ দিয়ে ব্যক্তিজীবনে নির্বাসিত করে রাখার চিন্তা করা ভুল। রাষ্ট্রের প্রথম উপাদান হচ্ছে মানুষ, সেই মানুষের চিন্তা চেতনা ও বিশ্বাস থেকে ধর্মকে বাদ দিয়ে রাষ্ট্র চালানোর পথ হঠকারিতা ছাড়া আর কিছু নয়।

আমরা যদি বিভিন্ন মতবাদের তাত্ত্বিক বিষয়গুলোকে আপাতত বাদ রেখে একটু বাস্তবতার দিকে ফিরে তাকাই তাহলে দেখতে পাই যে, চলমান দুনিয়ায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে বড় বড় সমস্যাগুলো বিরাজ করছে সেগুলোর উৎপত্তি ধর্মকে কেন্দ্র করেই। মধ্যযুগে ইউরোপে খ্রিষ্ট ধর্ম মানুষের জাতীয় জীবনের সমস্যাগুলোর সঠিক সমাধান দিতে পারছিল না, অথচ ধর্মযাজকগণ ছিলেন প্রবল ক্ষমতার অধিকারী। তখন রাজা আর চার্চের মধ্যে, ধর্ম ও রাজনীতির মধ্যে তুমুল সংঘাত সৃষ্টি হয়েছিল। ধর্ম ও রাষ্ট্রের মধ্যে কোনোভাবে সমন্বয় করতে না পেরে নিরুপায় রাষ্ট্রনায়কগণ ধর্মকে জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় অঙ্গন থেকে কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন, এরই পারিভাষিক নাম ধর্মনিরপেক্ষতা। সাধারণ মানুষের ধর্মপ্রাণতা আর রাজনীতিকদের ধর্মহীন রাষ্ট্রের চিন্তাধারার বিপরীতমুখী এ যাত্রা আজও আমাদের জীবনে নিত্যনতুন সংঘাত আর সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটিয়ে যাচ্ছে। এটা এখন রাষ্ট্রনায়কদের বড় মাথা ব্যথার কারণ যে, ধর্মকে বাদ দেওয়া যাচ্ছে না, আবার ধর্মজীবীদের হাতে দেশকে তুলেও দেওয়া যাচ্ছে না। কারণ নানাবিধ কারণে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য যে যোগ্যতা প্রয়োজন তা এদের মধ্যে গড়ে ওঠে নি। তাদের হাতে রাষ্ট্রশক্তি গেলে সেখানে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ভয়াবহ রূপ নেবে, বিকৃত ধর্মের কারণে মানুষ অন্ধত্ব, পশ্চাৎপদতার গহীনে নিমজ্জিত হবে। এক কথায় আরেকটি মোল্লাতান্ত্রিক তালেবানি রাষ্ট্র (ঞযবড়পৎধপু) কায়েম হবে যা সাধারণ মানুষের কাম্য নয়। মানবজাতিকে বহুল উচ্চারিত যে প্রশ্নের সমাধান এখন করতে হবে তা হলো:

রাষ্ট্রপরিচালনার ক্ষেত্রে ধর্মকে নিয়ে কী করা হবে?

এক কথায় এ প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে: যুগে যুগে ধর্ম এসেছে মানবতার কল্যাণে, তাই ধর্মকে মানুষের কল্যাণেই কাজে লাগাতে হবে। রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য মানুষের কল্যাণ, ধর্মকেও যদি আমরা একই উদ্দেশ্যে ব্যবহার করি তাহলে ধর্ম ও রাষ্ট্রের দ্বন্দ্ব ঘুঁচে যাবে, ধর্ম ও রাষ্ট্র হাত ধরে পথ চলবে এবং স্বভাবতই মানবজাতির সকল অন্যায় অশান্তির সমাধান হয়ে যাবে।
(চলবে)
সর্বপ্রথম পাঠককে মনে করিয়ে দিচ্ছি যে, প্রচলিত ধর্মগুলোই মানুষের জীবনে অনেকাংশে অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এর কারণ এগুলো শত-সহস্র বছর ধরে বিকৃত হতে হতে বর্তমানের রূপ ধারণ করেছে এবং সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় সেগুলোকে পুঁজি করে বিভিন্ন ধর্মব্যবসায়ী শ্রেণি গড়ে উঠেছে। এই ধর্মব্যবসায়ী শ্রেণির স্বার্থের হাতিয়ারে পরিণত না হলে ধর্ম থেকে মানুষ আজও প্রভূত কল্যাণ লাভ করত। সামনে দু'একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি বোঝাতে চেষ্টা করব।

বর্তমান বাস্তবতা হচ্ছে এক শ্রেণির ধর্মাশ্রয়ীর দ্বারা ধর্ম এখন মানুষের সামষ্টিক জীবনে কল্যাণের চেয়ে ধ্বংসই সাধন করছে বেশি। তাছাড়া বর্তমান জীবনব্যবস্থায় ধর্মকে যেভাবে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে তথাকথিত ভাব-গাম্ভীর্য আরোপ করে উপাসনা, পরলোকগত নেতাদের কবর জেয়ারত ও কোর’আন খানি, ঈদ, পূজা-পার্বণে বাণী দেওয়া, উপাসনালয় পরিদর্শন করা, হজ্ব-তাওয়াফ, চেহলাম, অনুষ্ঠানের শুরুতে তেলাওয়াত ইত্যাদির মধ্যে সীমাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে সেখান থেকে উঠে এসে মানবসমাজে কল্যাণকর ভূমিকা রাখার কোনো সুযোগ ধর্মের নেই।
আর ব্যক্তিগত জীবনে ধর্মের সঙ্গে কেবল আখেরাতের যোগাযোগ, পার্থিব জীবনের তেমন কোনো সম্পর্ক নেই, এভাবে ধর্মকে গুরুত্বহীন করে রাখা হলেও ইতিহাসের পাতায় দৃষ্টি দিলে আমরা দেখতে পাই ধর্মব্যবসায়ী ও ধর্মকে অপব্যবহারকারী রাজনীতিকরা মানুষের ধর্মবিশ্বাসকে যুগে যুগে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে এসেছে। ধর্মের দোহাই দিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ হত্যাকেও বৈধ করে ফেলা হয়েছে। এক সম্প্রদায়কে আরেক সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে, ধর্মের নামে গণহত্যা, গণধর্ষণ, সর্বস্বপহরণ করা হয়েছে। বহু জাতিই এমন নির্মমতার শিকার হয়েছে।

ইহুদি জাতির কথা বলতে পারি। সেই ৭০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত অর্থাৎ প্রায় দুই হাজার বছর এই ইহুদি জাতির ইতিহাস কী? তাদের ইতিহাস হচ্ছে এই যে, ইউরোপের যে দেশেই তারা আশ্রয় নিয়েছে, বসতি স্থাপন করেছে, সেই দেশের সমস্ত মানুষ তাদের অবজ্ঞা করেছে, ঘৃণা করেছে। অনেকে শুকরকে যেমন ঘৃণা করে- তেমনি ঘৃণা করেছে। শুধু ঘৃণা করেই তারা ক্ষান্ত হয় নি। কারণে-অকারণে মাঝে মাঝেই ইউরোপের খ্রিষ্টানরা দলবদ্ধ হয়ে ইহুদিদের বসতি আক্রমণ করে তাদের পুরুষদের হত্যা করে মেয়েদের বেঁধে নিয়ে গেছে, সম্পত্তি লুটপাট করে বাড়ি-ঘর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে।

এই কাজটা ইউরোপীয় খ্রিষ্টানরা প্রতিটি ইউরোপীয়ান রাষ্ট্রে এতবার করেছে যে ইউরোপীয় ভাষায় একে বোঝাবার জন্য একটি নতুন শব্দেরই সৃষ্টি হয়েছে- Pogrom, যার আভিধানিক অর্থ হলো Organised Killing and Plundered of a Community of People, বাংলায় “সুসংগঠিতভাবে সম্প্রদায় বিশেষকে হত্যা ও লুণ্ঠন।” দু’হাজার বছর ধরে ইহুদিদের উপর ঐ Pogrom চালাবার পর শেষ Pogrom চালালেন হিটলার। তিনি ইউরোপের ইহুদিদের উপর চরম অত্যাচার করলেন ও ছয় মিলিয়ন অর্থাৎ ৬০ লক্ষ ইহুদিদের হত্যা করালেন (যদিও এ সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক আছে)।

একইভাবে একসময় সনাতন ধর্মের ব্রাহ্মণ্যবাদীদের কোপানলে ছারখার হয়ে গিয়েছিল মহামতি বুদ্ধের অনুসারীরা, পোপ দ্বিতীয় আরবানের ফতোয়ায় ক্রুসেডে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল ইউরোপীয় খ্রিষ্টানরা, আবার ইউরোপের বিভিন্ন এলাকা বিশেষ করে স্পেন থেকে মুসলিমদের নির্মূল করে আটশ’ বছরের ইসলামি সভ্যতার নামগন্ধ মুছে ফেলেছিল,
বসনিয়াতে গণহত্যার পাশাপাশি দুই লক্ষ নারীকে ধর্ষণ করে সার্ব খ্রিষ্টানরা জারজ সন্তান জন্ম দিতে বাধ্য করেছিল। একই জাতীয় Pogrom আজ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ইসরাইল ও পশ্চিমা পরাশক্তিগুলো চালিয়ে যাচ্ছে। শুধু ইরাকেই হত্যা করা হয়েছে ১০ লক্ষ মুসলিম। বাহ্যিক দৃষ্টিতে যা-ই মনে হোক না কেন এ সমস্ত হামলার পেছনে মূল ইন্ধন যে ধর্ম এ সত্য কেউ অস্বীকার করতে পারবে না।

এটা সম্ভব হয়েছে শুধু এজন্যই যে, ধর্ম খুব সংবেদনশীল একটি বিষয়, এ ব্যাপারে মানুষ খুবই অনুভূতিপ্রবণ। মানুষ তার হৃদয়ের গভীরে স্রষ্টা, ধর্ম, ধর্মগ্রন্থ, ধর্মপ্রবর্তকগণের প্রতি সযত্নে শ্রদ্ধা লালন করে। ধর্মের উপর আঘাত হানলে মানুষ উত্তেজিত হয়ে হেন কর্ম নেই যা করতে পারে না। এই উত্তেজিত করার কাজটি খুব নিপুণভাবে করতে পারে ধর্মের ধ্বজাধারী, লেবাসধারী পুরোহিত-আলেম শ্রেণি। এটা চরম সত্য যে, ধর্ম থেকে পার্থিব স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করে শুধুমাত্র ধর্মব্যবসায়ীরা। তারা পার্থিব স্বার্থ ছাড়া ধর্মের কোনো কাজই করতে রাজি নয়। কিন্তু সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ ধর্মকে পরকালীন জীবনের পথ ও পাথেয় মনে করে, ধর্মের প্রতিটি কাজ তারা করে স্রষ্টার সন্তুষ্টি অর্জনের নিয়তে। ধর্মব্যবসায়ীরা নিজেদের স্বার্থে হাতিয়ার হিসেবে মানুষের এই নিঃস্বার্থ ধর্মপরায়ণতাকে ব্যবহার করে, মানুষের ঈমানকে, ধর্মীয় চেতনাকে ওয়াজ করে উত্তেজিত করে ভুল পথে প্রবাহিত করে। কোটি কোটি ভোটার ভোটদানকালে তাদের ধর্মবিশ্বাস (ঈমান) দ্বারা প্রভাবিত হয়। ধর্মব্যবসায়ীরা মানুষকে বলে যে, অমুক ব্যক্তি ইসলামের শত্রু, কাফের, তাকে হত্যা করলে সেটা আল্লাহর রাস্তায় জেহাদ হিসাবে গণ্য হবে। অথবা বলে যে, অমুক দল ধর্মদ্রোহী, তাদেরকে মারলে জান্নাত নিশ্চিত, তাদের দ্বারা নিহত হলে শহিদ, বাঁচলে গাজি।

মানুষ সরল বিশ্বাসে তাদের কথায় ভুল পথে পা বাড়ায় এবং হত্যাকাণ্ডসহ বিবিধ সহিংস ঘটনা ঘটায়। ধর্মের অপব্যাখ্যা করে মানুষকে দিয়ে অধর্মের কাজ করানোর চেয়ে বড় পাপ ও প্রতারণা আর হতে পারে না। কারণ তাদের কথায় পবিত্র জেহাদ মনে করে আখেরাতে পুরস্কারের আশায় মানুষ ধর্ম-পরিপন্থী কাজগুলো করে। কিন্তু বাস্তবে সে হয় চরম ক্ষতিগ্রস্ত। সে তার ইহকাল-পরকাল দুটোই হারাবে। আর যারা তাদের ঈমানকে হাইজ্যাক বা লুট করে এভাবে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করবে, হাশরের দিন আল্লাহর কাছে তাদেরও জবাব দিতে হবে, সঙ্গে আরো বহু মানুষের পাপের বোঝাও তাদেরকে বহন করতে হবে। আল্লাহ তাদের সম্পর্কেই বলেছেন, আগুন সহ্য করতে তারা কতই না ধৈর্যশীল (সুরা বাকারা-১৭৫)।


কিন্তু সেটা তো আখেরাতের বিষয়, বর্তমানে এই ধর্মজাত ফেতনা থেকে আমাদের মুক্তির উপায় কী? এ থেকে পরিত্রাণের একমাত্র উপায় হচ্ছে মানুষের ধর্মবিশ্বাস (ঈমান)-কে সঠিক পথে পরিচালিত করা। আবারও বলছি, ধর্মকে বাদ দেওয়া যাবে না, অবজ্ঞাও করা যাবে না বরং বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর ধর্মবিশ্বাসকে সঠিক পথে (To right direction) পরিচালিত করতে হবে। আমাদের দেশের ৯০ ভাগ মুসলমানসহ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সকলেই কমবেশি ধর্মপ্রাণ। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাদের একটি বিরাট অংশকে ইতোমধ্যেই ধর্মব্যবসায়ীরা বিভ্রান্ত করে ফেলেছে। সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে আন্তধর্মীয় ভুল বোঝাবুঝি ও বিদ্বেষভাব এত প্রবলভাবে আছে যা বিশেষ বিশেষ ঘটনায় প্রকট আকার ধারণ করে। ১৯৪৭ এর দেশভাগ ছিল ধর্মভিত্তিক, কারণ ব্রিটিশ ষড়যন্ত্রের ফলে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা এতটাই নৃশংস রূপ ধারণ করেছিল যে, একটি ভূখণ্ডে বসবাস করা তাদের জন্য অসম্ভব হয়ে উঠেছিল। তারপরও দাঙ্গা নিয়মিতই চলমান ছিল। একাত্তরে তার চরম রূপ আমরা দেখেছি যে কীভাবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি ও সংখ্যালঘুদের উপর ধর্মব্যবসায়ীরা ধর্মের নামে অত্যাচার নির্যাতন চালিয়েছে। একাত্তরে যারা পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছিল তাদের এ সিদ্ধান্তের পেছনে প্রধান কারণই ছিল ধর্ম।


ধর্মীয় উন্মাদনা থেকেই জঙ্গিবাদের সূচনা হয়। জঙ্গিবাদ ও অপরাজনীতির ভয়াবহ পরিণাম আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ দেখে আসছি, নিকট অতীতেও (২০১৩) দেখেছি। ভবিষ্যতে যেন আমাদের দেশে আবারও কোনো প্রকার ধর্মব্যবসায়ী শ্রেণি ধর্মের নামে উন্মাদনা সৃষ্টি করে জননিরাপত্তা ও দেশকে হুমকির মুখে ফেলতে না পারে, তাই যত দ্রুত সম্ভব ধর্মের এই অপব্যবহারের দ্বার রুদ্ধ করা উচিত। অতীতে দেখা গেছে- সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টির যথাযথ গুরুত্ব অনুধাবন করেন নি, তারা ব্যাটন ও বুলেটের দ্বারা সব সমস্যার সমাধান করে ফেলবেন এমন মনোভাবই প্রদর্শন করেছেন। তারা ধর্মব্যবসায়ীদের দ্বারা প্ররোচিত বৃহত্তর জনসংখ্যার ঈমানকে খাটো করে দেখেছেন, অবজ্ঞা করেছেন। ফল হয়েছে এই যে, ধর্মব্যবসায়ীরা দেশজুড়ে এমন অরাজক পরিস্থিতি, অচলাবস্থা ও গৃহযুদ্ধের পরিবেশ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে যা বিশ্বময় সমালোচনার ঝড় তুলে দিয়েছে এবং এদেশের মানুষকে মৌলবাদী, উগ্রবাদী হিসাবে চিত্রিত করেছে, পাশাপাশি জনজীবনকে অসহনীয় দুর্ভোগের মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। তাই এ ধারণা করা বিরাট বড় ভুল যে, সাধারণ মানুষ অশিক্ষিত, কূপমণ্ডূক, কুসংস্কারাচ্ছন্ন, মান্ধাতার আমলের বাসিন্দা। তাদের সেন্টিমেন্টকে খাটো করে দেখলে বিপর্যয় সৃষ্টির সম্ভাবনা থেকেই যাবে।

ধর্মীয় অনুভূতির চাবি আর কোনোভাবেই স্বার্থান্বেষী ধর্মব্যবসায়ীদের হাতে রাখা যাবে না। রাখলে সিরিয়া, মিশর, ফিলিস্তিন, আলজেরিয়া, তিউনেশিয়া, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ইত্যাদি দেশগুলোতে যা হচ্ছে সেটা এখানেও যে হবে না তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারবে না।

কিছুদিন আগেও আমাদের দেশে জুমার দিনে মসজিদগুলোতে পাহারা দিতে গিয়ে গলদঘর্ম হতে হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে- এ পরিস্থিতি ভুলে গেলে চলবে না। কিন্তু মানুষের ঈমানকে সঠিকপথে পরিচালিত করা হলে তখন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দিয়ে মসজিদের মুসুল্লিদের পাহারা দিতে হবে না, বরং মুসুল্লিরাই বিনে পয়সায় আত্মা থেকে দেশ ও দেশের সম্পদ পাহারা দেবে।

ধর্মবিশ্বাসকে অস্বীকার করে কল্যাণ রাষ্ট্র পরিচালনা করা যাবে না। পশ্চিমা বস্তুবাদী ‘সভ্যতা’র শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের ফলে আমাদের সমাজেও তথাকথিত মুক্তমনা, শিক্ষিত ও উন্নাসিক একটি শ্রেণির প্রাদুর্ভাব হয়েছে যারা বলে থাকেন ধর্ম কুসংস্কার, ধর্ম প্রাচীন যুগের সমাজপতিদের তৈরি করা জুজুর ভয়, স্রষ্টা বলতে কেউ নেই, পরকাল, জান্নাত, জাহান্নাম সবই মানুষের কল্পনা। তারা ধর্মের প্রভাবকে, ধর্মের গন্ধকেও মানবজীবন থেকে ঝেড়ে ফেলতে চান। রাষ্ট্রপরিচালকগণও অনেক ক্ষেত্রে তাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে পড়েন। তাদের কথা ও কাজের দ্বারা যখন মানুষের ধর্মানুভূতিতে আঘাত লাগে তখনই সমাজে দাঙ্গা ও গোলোযোগ সৃষ্টি হয়।

আমাদেরকে অবশ্যই অনুধাবন করতে হবে যে, এই তথাকথিত মুক্তমনারা যতই বলুন, বইয়ে আর ব্লগে লেখালিখি করুন না কেন, মানুষের ধর্মবিশ্বাসকে মুছে ফেলার চেষ্টা ব্যর্থ হতে বাধ্য, অধিকাংশ মানুষই এসব কথা শুনবে না। এ কথা বিগত কয়েক শতাব্দীতে শত শতবার প্রমাণিত হয়েছে। ইউরোপে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের উদ্ভবের পাশাপাশি নাস্তিক্যবাদেরও উদ্বোধন ঘটে যা কম্যুনিজমের মাধ্যমে রাষ্ট্রব্যবস্থায় বাসা বাঁধতে সক্ষম হয়। পাশ্চাত্যের শিক্ষাব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধর্মহীন, এই শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে ঔপনিবেশিক যুগে বিশ্বের অধিকাংশ মানুষকেই ধর্মের প্রতি সন্দিহান করে তোলা হয়েছে, আর রাষ্ট্রব্যবস্থা থেকে তো বহু আগেই বাদ দেওয়া হয়েছে। বিগত শতাব্দীতে কম্যুনিস্ট শাসনাধীন এলাকাগুলোতে নাস্তিক্যবাদী দর্শনের যে রমরমা পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল তাতে করে নাস্তিক্যবাদী চিন্তানায়ক ও রাষ্ট্রনায়করা ধারণা করেছিলেন যে এবার বুঝি স্রষ্টার ধ্যান-ধারণাকে মানুষের মন-মগজ থেকে ঝেটিয়ে বিদায় করা সম্ভব হবে। কিন্তু কার্যত সেটা সম্ভব হয় নি।

কারণ,
ক) যিনি সৃষ্টি করেছেন অর্থাৎ সেই স্রষ্টার রূহ বা আত্মা প্রত্যেকের ভেতরে আছে। স্রষ্টাকে বিশ্বাস করার মতো যথেষ্ট রকম উপাদান প্রকৃতিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, যেগুলো পবিত্র কোর’আনে আল্লাহ আয়াত, নিদর্শন বা মো’জেজা বলেছেন। এসব দেখার পরও মানুষ অন্ধের মতো নাস্তিকে পরিণত হবে না। আল্লাহর নাজেলকৃত ধর্মগ্রন্থগুলোর বেশ কয়েকটি এখনও মানুষের কাছে আছে যেগুলো স্রষ্টার অস্তিত্বের স্বাক্ষর বহন করছে। মানুষ সেগুলো সম্মানের সঙ্গে পড়ছে, জানছে, বিচার বিশ্লেষণ করছে। এগুলোর স্বর্গীয় বাণীসমূহ মানুষের আত্মার গভীরে প্রভাব ফেলছে। অধিকাংশ মানুষ সেগুলোকে মাথায় করে রাখছে, সন্তানকে যেমন যত্ন করা হয় সেভাবে যত্ন করছে। সুতরাং মানবজাতিকে ধর্মহীন করে ফেলার চেষ্টা অপ্রাকৃতিক, বাস্তবতাবর্জিত, নিতান্তই অর্বাচীন ও মূঢ়তাসুলভ পরিকল্পনা।


খ) অতীতে হাজার হাজার হয়তো লক্ষ লক্ষ বছর মানুষকে শান্তি দিয়েছে ধর্ম। এই ইতিহাস মানুষের জানা আছে। সময়ের সেই বিশাল ব্যাপ্তির তুলনায় গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ইত্যাদির শাসনামল এক ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ভগ্নাংশ মাত্র এবং এগুলোর অভিজ্ঞতাও শান্তিময় নয়। ধর্মের শাসনে প্রাপ্ত সেই শান্তির স্মৃতি মানবজাতির মন থেকে মুছে যায় নি। অধিকাংশ মানুষ এখনও দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে একমাত্র স্রষ্টার বিধানেই শান্তি আসা সম্ভব। কাজেই যুগের হাওয়া তাদেরকে যতই অন্য দিকে ঠেলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুক, তারা শান্তির আশায় বারবার ধর্মের পানেই মুখ ফেরায়। উপরন্তু প্রতিটি ধর্মগ্রন্থেই ভবিষ্যদ্বাণী আছে যে, শেষ যুগে (কলিযুগ, আখেরি যামানা, (The Last hour), আবার ধর্মের শাসন বা সত্যযুগ প্রতিষ্ঠিত হবে, মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ বৈরিতা থাকবে না, কোনো অবিচার, অন্যায় শোষণ থাকবে না, পৃথিবীটা জান্নাতের মত শান্তিময় (Kingdom of Heaven) হবে। এই বিশ্বাস থেকে অধিকাংশ মানুষ ধর্মের উত্থানই কামনা করে। এটা তাদের ঈমানের অঙ্গ, এ বিশ্বাস মানুষের অন্তর থেকে মুছে ফেলা সম্ভব নয়।


গ) শান্তির আশায় ধর্মের পানে ছুটে চলা মানুষকে ফেরাতে চাইলে স্বাভাবিকভাবেই প্রয়োজন হবে ধর্মের বিকল্প এমন একটি জীবনব্যবস্থা প্রণয়ন যা তাদেরকে সেই কাক্সিক্ষত শান্তি দিতে পারবে, একই সঙ্গে দেহ ও আত্মার প্রশান্তি বিধান করতে পারে। কিন্তু সত্যি বলতে কি সেটা মানুষ আজ পর্যন্ত করতে পারে নি এবং কোনো কালে পারবেও না। বহু চেষ্টা করেছে কিন্তু সবই মাকাল ফল। শান্তির শ্বেতকপোত গণতান্ত্রিক বা সমাজতান্ত্রিক কারো হাতেই ধরা দেয় নি। [ধরুন, যদি কোনো ব্যক্তিকে বলা হয় যে, তুমি কীভাবে মরতে চাও? গুলি খেয়ে না বিষ খেয়ে? বাঁচার কোনো পথ নেই, কেবল মরার জন্য দু’টো পথ। ঐ মানুষটিকে একটা না একটা পথ বেছে নিতেই হবে।] মানুষের আবিষ্কৃত জীবনব্যবস্থাগুলোকে যত সুন্দর সুন্দর নামেই ডাকা হোক না কেন তা হচ্ছে মানবজাতির সামনে মৃত্যুর বিকল্প পথ। জীবনের পথ একটাই; আর সেটা হলো ধর্ম অর্থাৎ স্রষ্টাপ্রদত্ত দেহ ও আত্মার সমন্বয়ে ভারসাম্যপূর্ণ জীবনব্যবস্থা।

বর্তমান স্রষ্টাবর্জিত জীবনদর্শন মানুষকে কেবল নিকৃষ্ট থেকে নিকৃষ্টতর জীবন উপহার দিয়েছে। কাজেই মানুষ এখন জীবন রক্ষার আশায় ধর্মের দিকেই যেতে চাইবে, কেননা তাদের বস্তুত শান্তি দরকার। সুতরাং মানুষকে ধর্মহীন করার যে চেষ্টা করা হয় সেটা কোনোদিন সফল হয় নি, হবেও না। এখন একটাই করণীয়, মানুষের ঈমানকে, ধর্মবিশ্বাসকে সঠিক পথে চালিত করা।

প্রথমেই কয়েকটি মৌলিক বিষয় মানুষকে জানাতে হবে যেমন- ধর্মের আগমনের প্রধান উদ্দেশ্য মানবতার কল্যাণ। ধর্মব্যবসা সকল ধর্মে নিষিদ্ধ। ধর্মকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে ধর্মব্যবসায়ীরা কীভাবে মানুষকে প্রতারিত করছে, কীভাবে মানুষের ইহকাল ও পরকালকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, কীভাবে তারা মিথ্যা ফতোয়াবাজি ও ধর্মের অপব্যাখ্যা দ্বারা সমাজে অন্যায়, অশান্তি, দাঙ্গা ও সাম্প্রদায়িকতা বিস্তার করছে আর নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করছে এসব বিষয় সাধারণ মানুষকে জানাতে হবে। এটা করতে পারলে তারা আর ভবিষ্যতে ধর্মব্যবসায়ীদের দ্বারা উত্তেজিত হয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামায় জড়াবে না। ধর্মব্যবসায়ীরা তাদের আচার-অনুষ্ঠানসর্বস্ব ধর্মের অপব্যবহার থেকে বিরত হতে বাধ্য হবে। সমাজ ধর্মব্যবসার অভিশাপ থেকে মুক্ত হবে। পাশাপাশি ধর্মের গায়ে লেগে থাকা অধর্মগুলোকে চিহ্নিত করে ধুয়ে ফেলে ধর্মকে নির্মল করতে হবে। ধর্মের সত্য ও সুন্দর রূপটিকে যদি মানুষের সামনে তুলে ধরা যায় তাহলে আলো ও অন্ধকার, সাদা ও কালো পৃথক হতে সময় লাগবে না।


অতঃপর মানুষের ঈমানকে ইতিবাচক পথে, ন্যায়ের পথে, মানবতার কল্যাণে, মানুষের মুক্তির জন্য, জাতীয় উন্নতি-প্রগতির কাজে লাগাতে হবে। একটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি পরিষ্কার হতে পারে। এটা সহজবোধ্য যে, কোনো একটি কাজ রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় করা যদি অসম্ভবও হয়ে দাঁড়ায়, আপামর জনতা যদি তাদের ধর্মবিশ্বাস থেকে সেটা করতে উদ্যোগী হয় তাহলে রাষ্ট্রের বিনা খরচে খুব সহজেই করা সম্ভব। ধরুন, সরকার সিদ্ধান্ত নিল যে, প্রতিটি গ্রামে হতদরিদ্র, অক্ষম মানুষদের জন্য একটি করে পাকা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। ৮৫ হাজার আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করতে সরকারকে বিরাট বাজেট বরাদ্দ করতে হবে, অনেক কাঠখড় পোড়াতে হবে, বৈঠকের পর বৈঠক করতে হবে, বিদেশীদের কাছে সাহায্যের জন্য হাত পাততে হবে, ট্যাক্স বাড়াতে হবে, টেন্ডার দিতে হবে, সেখানে দুর্নীতি হতে পারে, টেন্ডারবাজদের মধ্যে মারামারি হবার সম্ভাবনা থাকে। এক কথায় সরকারের উপর বিরাট একটা চাপের সৃষ্টি হবে। ফলে এ উদ্যোগ হয়তো আদৌ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।

আর যদিও বা হয়, সেই ব্যয়িত অর্থের অতি ক্ষুদ্র অংশই বাড়িটির নির্মাণ কাজে ব্যয় হবে এবং সে বাড়ি কতটা টেকসই হবে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। কিন্তু এ কাজটিই অতি সহজে করে ফেলা সম্ভব হবে যদি মানুষের ধর্মবিশ্বাসকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো যায়। যদি প্রতিটি গ্রামের বাসিন্দাদেরকে এটা বুঝানো যায় যে, আমরা সবাই আমাদের গ্রামের দুস্থ আশ্রয়হীন মানুষের থাকার জন্য ঘর তৈরি করে দিলে আল্লাহ এবং আল্লাহর রসুল আমাদের উপর খুশি হবেন। এ ঘরের বিনিময়ে আল্লাহ পরকালে আমাদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দেবেন এবং তাঁর জান্নাতে আমাদের জন্য ঘর নির্মাণ করে দেবেন। নিরাশ্রয় মানুষগুলো আমাদের জন্য দোয়া করবে। মানুষের কল্যাণে কাজ করাই আমাদের প্রকৃত এবাদত- এই সত্যটি জানলে এভাবে মানুষগুলো যার যা সামর্থ আছে তা নিয়ে এগিয়ে আসবে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে এ কাজে আত্মনিয়োগ করবে তাহলে সরকারি আর্থিক সহায়তা ছাড়াই শুধুমাত্র সরকারি ব্যবস্থাপনাতেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে এবং বিনা দুর্নীতি, বিনা টেন্ডারবাজিতে ৮৫ হাজার গ্রামে পাকা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মিত হয়ে যাবে।

শুধু কি তাই? এ কাজে মুসলিম-সনাতন-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সবাই অংশ নেবে, তাদের মধ্যেও সৃষ্টি হবে ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি। সকল ধর্মেই পরহিতব্রতের কথা, ‘মানবতার কল্যাণই মুক্তির পথ’- এ কথা বলা আছে। তাই ধর্মকে উপাসনালয়ের অচলায়তন থেকে বের করে মানুষের কাজে লাগাতে হবে। এভাবেই ধর্মবিশ্বাস একদিকে যেমন পৃথিবীকে সুন্দর করে তুলবে, পরকালকেও সাফল্যমণ্ডিত করবে।

আজ আমরা পদ্মাসেতু নিয়ে চিন্তিত। অথচ ১৬ কোটি মানুষের জন্য কল্যাণকর এই সেতু নির্মাণকে সহজ করে দিতে পারে ধর্মের সঠিক ব্যবহার। কিন্তু আমরা দেখতে পাই, ধর্মকে ব্যবহার করেই আজ অনেক জাতীয় সম্পদ, ব্রিজ, সেতু, রাস্তাঘাট, রেললাইন পর্যন্ত ধ্বংস করে দেওয়া হয়। অর্থাৎ ধর্ম আজ জাতীয় উন্নতি অগ্রগতির পরিবর্তে ধ্বংসের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে করে ধর্মের প্রতি মানুষের ঘৃণা, বিতৃষ্ণা সৃষ্টি হওয়া খুবই স্বাভাবিক।

কিংবা ধরুন বাংলাদেশে এক কোটি দরিদ্র মানুষ আছে যারা পরনির্ভরশীল, অনেকে ভিক্ষাজীবী। একজন মানুষের সারাদিনে খাবারের খরচ একশ টাকা ধরলে দৈনিক লাগবে একশ কোটি, মাসে লাগবে তিন হাজার কোটি। এত টাকা বছর জুড়ে যোগানো কি সরকারের সাধ্যের মধ্যে? না। কিন্তু বাকি পনের কোটি মানুষকে যদি বোঝানো হয়, এই মানুষগুলো তোমাদেরই দরিদ্র ভাই। প্রতিবেশীকে ক্ষুধার্ত রেখে তুমি নামায, রোযা করলেও লাভ নেই, তুমি তো মোমেনই হতে পারবে না। সুতরাং বাঁচতে হলে ওদের খাওয়াও। আল্লাহ তোমাদেরকে জান্নাত দিবেন। তোমাদের অর্থ-সম্পদ ধর্মব্যবসায়ীদের দিও না, দরিদ্র মানুষকে দাও। এয়ারকন্ডিশনযুক্ত টাইলসের মসজিদ বানানোর দরকার নেই, আল্লাহর রসুল খেজুর পাতার ছাউনি দেওয়া মসজিদে থেকে রাষ্ট্র চালিয়েছেন। ওই টাকা দিয়ে এই ক্ষুধার্ত মানুষগুলোকে খাওয়াও। এভাবে যদি চেষ্টা করা হয়, দেখা যাবে রাষ্ট্রের জন্য বোঝা হয়ে থাকা ঐ এক কোটি মানুষের জন্য রাষ্ট্রকে কোনো চিন্তাই করতে হবে না। আজও হাজার হাজার এতিমখানায় লক্ষ লক্ষ শিশু বড় হচ্ছে মানুষের দানের টাকায়, ধর্মকে বাদ দিলে এই ব্যয় তখন সরকারকেই যোগাতে হবে। যদি এতিমখানায় দানকৃত অর্থে ধর্মব্যবসায়ীদের কালো থাবা না পড়ত তাহলে নিঃসন্দেহে অর্থ উপচে পড়ত।

অনেকে মনে করতে পারেন যে, এভাবে দরিদ্র মানুষকে যদি কর্ম বাদেই থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়া যায় তবে তো সমাজ কর্মবিমুখ মানুষে ভরে যাবে, সমাজে আরও দরিদ্রতা নেমে আসবে। তাদের জ্ঞাতার্থে বলতে চাই ইসলামসহ সকল ধর্মই কর্মের প্রতি মানুষকে উৎসাহিত করেছে। বৈরাগ্যবাদ ও আলস্য উভয়ই ইসলাম নিষিদ্ধ করে, কারণ এতে সমাজের ভারসাম্য ধ্বংস হয়ে যায়। ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা যদি মানুষ পায় তবে তারা প্রচণ্ড গতিশীল ও কর্মমুখী হবেই। কোনো ধর্মেই অলসতার কোনো স্থান নেই।

এখানে মহানবীর একটি ভাষণ লক্ষ্য করুন। তিনি বলেছেন, “হে মানুষ! আমি তোমাদের উপদেশ দিচ্ছি, জীবিকা হাসিল করার জন্য সম্ভাব্য সকল উপায়ে জোর চেষ্টা কর এবং তোমাদের প্রচেষ্টার পরিপূর্ণতার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া কর। এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই যে, কোনো মো’মেনের সত্তাকে দুনিয়ায় বেকার এবং অনর্থক সৃষ্টি করা হয় নি। বরং তার জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত কর্ম ও কর্তব্যের সঙ্গে সংযুক্ত। কর্ম ও প্রচেষ্টার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে। অল্পে সন্তুষ্টি এবং আল্লাহর প্রতি নির্ভরশীলতার অর্থ এ নয় যে, হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকা এবং নিজের বোঝা অন্যের উপর চাপিয়ে দেয়া। নিশ্চয় আল্লাহর উপর ভরসা রাখা আমাদের প্রধান কর্তব্য। কিন্তু রেযেক হাসিল করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রচেষ্টা নিতান্তই জরুরি বিষয়।

আমি তোমাদেরকে অবহিত করছি যে, দুনিয়ায় যত নবী-রসুল এসেছেন তাদের সবাই জীবিকা উপার্জনের জন্য চেষ্টা-সাধনা করতেন এবং নিজেদের বোঝা অন্যের চাপিয়ে দিতেন না। অতএব, তোমরাও জীবিকা উপার্জনের জন্য কঠোর প্রচেষ্টা কর। কায়িক শ্রম, কুলির কাজ করা এবং লাকড়ির বোঝা নিজের মাথায় ওঠানো অন্যের কাছে হাত পাতার চেয়ে উত্তম। যার জীবিকা উপার্জনের সামর্থ্য রয়েছে অন্যের কাছে চাওয়া তার জন্য খুবই অপমানজনক। সে দুনিয়াতেও লাঞ্ছিত এবং শেষ বিচারের দিনও তাকে এমন অবস্থায় হাযির করা হবে যে তার চেহারায় গোশত থাকবে না। আমি পরিষ্কারভাবে তোমাদের বলছি, যার কাছে একদিনের খাদ্যও মজুদ রয়েছে তার জন্য হাত পাতা অবশ্যই হারাম। আমি জানি কোন কোন সুফিসাধক ভিক্ষাবৃত্তিকে জায়েয বলেন, কিন্তু ইসলাম হাত-পা গুটিয়ে বসা এবং ভিক্ষাবৃত্তি গ্রহণ করাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে। ইসলাম আমাদের হুকুম দিয়েছে যে, ‘দুনিয়ায় ছড়িয়ে যাও এবং আল্লাহর করুণা সন্ধান করো (সূরা জুমাহ-১০)।’ যে ভিক্ষাবৃত্তি থেকে বাঁচবে, নিজের পরিবার-পরিজনের ভরণপোষণ করা ও প্রতিবেশীর সাহায্য সহযোগিতা করার জন্য হালাল উপায়ে জীবিকা হাসিল করবে সে কেয়ামতের দিন পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বল চেহারা নিয়ে আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হবে। দুনিয়াতেও তার জন্য সম্মান ও প্রতিপত্তি রয়েছে।” (ইসলামী ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত মহানবীর ভাষণ বই থেকে)

ধর্ম যেমন অর্থশালী মানুষকে দান করতে শেখায়, তেমনি দরিদ্র মানুষকে ভিক্ষা না করে কর্ম করতে শেখায়। কোনো ধর্মই ভিক্ষাবৃত্তিকে বৈধতা দেয় না। ইসলামের এ শিক্ষার দরুণ পরিবারের কর্মক্ষম সকলেই আর্থিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেবে তেমনি অর্থের স্রোত উপর থেকে নিচের দিকে প্রবাহিত হয়ে বৈষম্য লাঘব করবে।


শ্রীগীতায় বলা হয়েছে, “তুমি নিয়ত কর্ম (অপরিহার্য কর্ম, জীবিকার্জনের কর্ম) কর; কর্মশূন্যতা (বেকারত্ব, কর্মবিমুখতা) অপেক্ষা কর্ম শ্রেষ্ঠ, কর্ম না করিলে তোমার দেহযাত্রাও নির্বাহ হইতে পারে না।” (কর্মযোগ অধ্যায়- শ্লোক-৮)।


এবার দেখুন বাইবেলে ঈসা (আ.) কী বলেছেন- “আল্লাহ মানুষের শ্রম বিনিয়োগকে কপালের লিখন করে দিয়েছেন। আইয়ুব, যিনি আল্লাহর নবী বন্ধু ছিলেন তাঁর কথায়, ‘পাখির জন্ম যেমন উড়ে বেড়াবার জন্য, সাঁতার কাটার জন্য মৎস্যকুল, ঠিক তেমনি মানুষের সৃষ্টি হয়েছে শ্রমিকরূপে, কর্ম করে যাবার জন্য।’
আল্লাহ মানুষকে আদেশ করেছেন এই মর্মে, ‘তেমার কপালের ঘামের বিনিময়ে তুমি খাদ্য সংগ্রহ করবে!’ আর আইয়ুব (আ.) এর বাণী হলো: ‘মানুষের জন্মই হয়েছে কাজের জন্য!’ অতএব যে মানুষ নয় সেই-ই শুধু এই নির্দেশের ঊর্ধ্বে। নিশ্চিতই যাবতীয় পণ্যের এত উচ্চমূল্যের কারণ হলো বেশ কিছু সংখ্যক মানুষের বেকারত্ব ও নিষ্কর্মাবৃত্তি। যদি এরা কর্মতৎপর হতো, কেউ কাজ করত কৃষি ক্ষেতে, কেউ মাছ শিকার করত পানিতে, তবে জগৎ প্রাচুর্যে পূর্ণ হয়ে যেত। কর্মের জগতে এই শূণ্যতা সৃষ্টির জন্য নিশ্চয়ই ভয়ঙ্কর হাশর দিবসে তাদের কঠোর জবাবদিহি করতে হবে।” (বার্নাবাসের বাইবেল- অধ্যায়-১১৪)।

ধর্মের এ শিক্ষাগুলি যে সমাজের তরুণরা পাবে তাদের মধ্যে অবশ্যই প্রচণ্ড গতিশীলতা, কর্মমুখিতা ও প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হবে। সামগ্রিকভাবে জাতি উন্নতি ও প্রগতির শীর্ষে আরোহণ করবে।

আবার রাষ্ট্রের ব্যয় নির্বাহের জন্য জনগণের কাছ থেকে কর আদায় করা হয়। সেই কর আদায়ে মানুষের ইচ্ছার প্রতিফলন নাও ঘটতে পারে। কিন্তু তাদেরকে যদি বোঝানো যায় যে রাষ্ট্রের উন্নয়নে দান করলে সেটা তার আখেরাতের সঞ্চয় হবে, তাহলে রাষ্ট্রের ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ও শ্রম মানুষ স্বেচ্ছায় প্রদান করবে।

এভাবে একটা একটা করে অনেক উদাহরণ দেওয়া যায়, তবে পাঠকের বোঝার জন্য এ কটিই যথেষ্ট হবে বলে মনে করি। অনেকে মনে করতে পারেন, এই যে সবাইকে বলা হবে, এই কাজ করলে জান্নাতে যেতে পারবে এটা কি সত্য, নাকি মিথ্যা? এটা মিথ্যা নয়, অবশ্যই সত্য। সকল ধর্মে আমাদের এ কথার অবশ্যই স্বীকৃতি মিলবে যে, মানুষের কল্যাণে কাজ করাই ধর্ম। এর বিনিময়েই স্রষ্টা পরজীবনে মানুষকে উত্তম প্রতিদান দিবেন বলে অঙ্গীকারাবদ্ধ। সুতরাং মানুষের ঈমানকে নেয়ামত বা আশীর্বাদ হিসাবে ঐক্যবদ্ধ জাতিগঠনে, মানবতার কল্যাণে, জাতির উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে, তবেই মানবজীবনের সার্থকতা আসবে। এটাই আমাদের কথা।

ভারী ইউরেনিয়াম ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা যায় আবার এটম বোমাও বানানো যায়। এটম বোমা পৃথিবীর জন্য হুমকি কিন্তু বিদ্যুৎ আশীর্বাদ। তেমনি ঈমানকে ভুল পথে নিয়ে গেলে যেমন জঙ্গিবাদের সৃষ্টি হতে পারে, তেমনি সেই ঈমানকে সঠিকপথে প্রবাহিত করা গেলে আখেরাতের সাথে সাথে পৃথিবীকেও সুন্দর করা যাবে। যে ঈমান দুনিয়ার কাজে লাগবে না তা হাশরের দিনেও কাজে লাগবে না। এজন্য আল্লাহ পবিত্র কোর’আনে মানুষকে দোয়া করতে শিখিয়েছেন যে, “হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদের দুনিয়ার জীবন ও আখেরাতের জীবনকে সুন্দর করে দিন এবং আমাদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে নিষ্কৃতি দিন”।

এখানে আগে দুনিয়ার জীবনকে সুন্দর করার কথা বলা হচ্ছে। এখানে আল্লাহ শব্দ ব্যবহার করেছেন হাসান, হাসান- অর্থ সুন্দর (উন্নতি, প্রগতি, শিক্ষা, ন্যায়-নীতি ইত্যাদি)। যার দুনিয়া সুন্দর নয়, তার হাশরও সুন্দর হবে না কারণ আখেরাতের জীবন দুনিয়ার জীবনের প্রতিফলনমাত্র।

অতীতে বারবার মানুষের ঈমান নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে, ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা হয়েছে। মানুষের ঈমান এমন একটি সম্পদ যেটাকে আমরা যদি সঠিক পথে ব্যবহার করতে না পারি, তাহলে সেটা অবশ্যই বিপথে-কুপথে পরিচালিত হবে। সেটা থেমে থাকবে না। কারো না কারো দ্বারা সেটা প্রভাবিত হবেই। যুগে যুগে সেই কুপথে পরিচালিত করার কাজটিই করেছে উগ্রপন্থী, ধর্মব্যবসায়ীরা, অপ-রাজনীতিকারীরা এবং অন্যান্য স্বার্থবাদীরা। এভাবে মানুষ তাদের ধর্মবিশ্বাসের কারণে বিভিন্নভাবে ধর্মব্যবসায়ীদের দ্বারা ব্যবহৃত হয়েছে। মানুষ জায়গা-জমি বিক্রি করে মানুষের কল্যাণে ব্যয় না করে পরকালীন মুক্তির প্রত্যাশায় ধর্মব্যবসায়ীদের হাদিয়া বা নজরানা দিয়েছে। এভাবে বহু ধর্মব্যবসায়ী ধনকুবের বনে গেছে, কিন্তু সাধারণ মানুষ নিঃস্বার্থভাবে তাদের আনুগত্য করেছে কেবলই ধর্মকে ভালোবেসে। সে ভালোবাসা অপাত্রে পড়েছে, নিষ্ফল হয়েছে।

এখন মানুষকে বোঝাতে হবে- মানবতার কল্যাণে কাজ করাই তোমার প্রকৃত এবাদত, এই এবাদতই আল্লাহর কাম্য, এটা করলেই জান্নাত সুনিশ্চিত। (প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, প্রচলিত বিকৃত ইসলাম ও ধর্মব্যবসায়ীদের মুখোস উন্মোচন করে সাধারণ মানুষের ধর্মবিশ্বাসকে সঠিক খাতে প্রবাহিত করার জন্য যে আদর্শিক উপকরণ তথা কোর’আন হাদীস, ইতিহাস, দলিল ভিত্তিক যুক্তি প্রমাণ প্রয়োজন তা আল্লাহর করুণায় যথেষ্ট পরিমাণে রয়েছে। আমরা গুটিকয় মানুষ নিজেদের সীমিত সামর্থ্যে এ কাজটি করার চেষ্টাও করে যাচ্ছি। কিন্তু এত বৃহৎ কাজ করার জন্য যে প্রচেষ্টা ও উদ্যোগ প্রয়োজন তা কোনো ব্যক্তি বা দলের একার উদ্যোগে করা কোনোকালেও সম্ভব নয়।

এটা তখনই সম্ভব হবে যখন রাষ্ট্রশক্তিসহ সমস্ত জাতি সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসবে। কল্যাণ-রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসাবে সেটা করা সরকারের দায়িত্ব এবং এতে রাষ্ট্রেরই কল্যাণ। মানুষকে এ বিষয়গুলো যদি যথাযথভাবে বোঝানো যায় তাহলে ধর্মীয় সেন্টিমেন্ট আর রাষ্ট্রের জন্য হুমকি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াবে না। জাতির কল্যাণে, মানুষের কল্যাণে ধর্মই হবে সুশীতল শান্তির আধার।



লেখক
আতাহার হোসাইন
কলামিষ্ট, দৈনিক বজ্রশক্তি ।

 পূর্ব প্রকাশিত